<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757</id><updated>2011-11-02T06:36:56.236-07:00</updated><category term='ভূগর্ভস্থ পানির স্তর'/><category term='শিক্ষা সমস্যা'/><category term='নিরাপত্তা পরিষদ'/><category term='গাদ্দাফী'/><category term='আমলাতন্ত্র'/><category term='politics'/><category term='awami league'/><category term='বাংলাদেশের শিক্ষা সমস্যা'/><category term='বাঙলাদেশ'/><category term='government'/><category term='বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সমস্যা'/><category term='bangladesh'/><category term='দুর্নীতি'/><category term='নাগরিক সমস্যা'/><category term='police'/><category term='তথ্য প্রযুক্তি'/><category term='পানি সংকট'/><category term='শিক্ষা'/><category term='বাংলাদেশের শিক্ষা বাণিজ্য'/><category term='obama'/><category term='মজুরি'/><category term='current news'/><category term='noble prize'/><category term='চরমপন্থী'/><category term='দ্রব্যমূল্য'/><category term='স্বাস্থ্য সমস্যা'/><category term='পরিবেশ বিপর্যয়'/><category term='পুলিশ'/><category term='জাতিসংঘ'/><category term='বাংলাদেশ'/><category term='rab'/><category term='শ্রমিক'/><category term='জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ'/><title type='text'>Badruddin Umar's Articles</title><subtitle type='html'>সংবাদপত্রে প্রকাশিত বদরুদ্দীন উমরের লেখাসমূহ</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>18</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-842267506454778485</id><published>2011-11-02T06:28:00.001-07:00</published><updated>2011-11-02T06:29:34.488-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সমস্যা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্বাস্থ্য সমস্যা'/><title type='text'>চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ সম্পূর্ণ হতে চলেছে</title><content type='html'>&lt;div dir="ltr" style="text-align: left;" trbidi="on"&gt;জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারি আমলারা, এমনকি জজ সাহেবরা সরকারি অর্থে দেশে ও বিদেশে নিজেদের চিকিৎসা করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন। এই ব্যয় জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে করা হচ্ছে। কিন্তু যারা উপরোক্ত ক্ষমতাবান লোকদের চিকিৎসার জন্য এই বড় আকারে ব্যয়ভার বহন করছেন তাদের নিজেদের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা তো দূরের কথা মোটামুটি একটা ব্যবস্থাও নেই! সামান্য যে ব্যবস্থা আগে ছিল সেটাও বন্ধ করে, সব রকম সরকারি ভর্তুকি প্রত্যাহার করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এখন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি যে দেশে ও যে শাসন ব্যবস্থায় বিরাজ করে তাকে সভ্য ও গণতান্ত্রিক বলা থেকে বড় মিথ্যাচার আর কী হতে পারে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭২ সালে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল সে প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন থেকে সব কর্মকাণ্ড ব্যবসায়ের মধ্যে লয়প্রাপ্ত হচ্ছে। লুটতরাজ, ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, সন্ত্রাস ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রাম থেকেই যে পুঁজি সংগঠিত হতে শুরু করে, সেটা মূলত ব্যবসায়ী পুঁজিতেই রূপান্তরিত হয়। এভাবে ব্যবসায়ী শ্রেণীই পরিণত হয় বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীতে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যদের আশি শতাংশের ওপর এখন ব্যবসায়ী অথবা ব্যবসায়ের সঙ্গে নানা যোগসূত্রে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ যে আজ সাধারণভাবে ব্যবসায়ীদের দ্বারাই শাসিত হচ্ছে এর থেকে তার বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাই হোক, বাংলাদেশ এখন ব্যবসায়ী শ্রেণীর দ্বারা শাসিত হচ্ছে এটুকু বললেই এখানকার পুরো অবস্থা বোঝা যাবে না। আসলে সবকিছুই এখন ব্যবসায়ী চিন্তাভাবনা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন শিক্ষাদীক্ষা, কাব্য-সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, নৃত্যসঙ্গীত চর্চা ইত্যাদি সব ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গেই ব্যবসার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ব্যবসায়ের দিক বিবেচনার বাইরে রেখে এ ধরনের কোনো চর্চার কথা এখন বাংলাদেশে ভাবাই যায় না। শুধু শিল্প-সংস্কৃতিই নয়, চিকিৎসাও এই একই প্রক্রিয়ার অন্তর্গত। বলাবাহুল্য যে, অন্য সবকিছুর বাণিজ্যিকীকরণের থেকে চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণই সাধারণভাবে জনগণের জন্য সব থেকে পীড়নমূলক ও যন্ত্রণার বিষয়। চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ এখন বাংলাদেশে যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এর সঙ্গে কোনো প্রকৃত সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ এবং শাসন ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। এর দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের সমাজ ও শাসন ব্যবস্থার অসভ্য এবং অগণতান্ত্রিক চরিত্রের পরিচয় অত সহজেই পাওয়া যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে এখন চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। চক্ষুরোগ, হৃদরোগ, কিডনিরোগ, স্নায়ুরোগ, ডায়াবেটিস থেকে নিয়ে অনেক ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে হচ্ছে। এই চিকিৎসার মান উন্নত। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে জনগণের জন্য কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে এটা বলা যাবে না। কারণ যে উন্নত চিকিৎসার কথা ওপরে বলা হলো তা এত বেশি ব্যয়সাপেক্ষ যে, সাধারণ কোনো রোগীর পক্ষে, গরিব তো বটেই, এমনকি মধ্যবিত্তশ্রেণীর রোগীর পক্ষেও এই চিকিৎসা লাভ সম্ভব হয় না। কাজেই গুরুতর কোনো অসুখ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা লাভ না করেই তাদের মৃত্যু হয়। যেখানে অর্থশালী লোকেরা টাকাপয়সা দিয়ে চিকিৎসা করে আরোগ্য লাভ করে এবং অন্যরা বিনা চিকিৎসায় মারা যায় তাদের মৃত্যুকে হত্যা ছাড়া আর কী বলা যায়? সাধারণভাবে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো ব্যক্তিবিশেষ দায়ী নয়। এর দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের। এর দায়িত্ব রাষ্ট্রের ম্যানেজার ক্ষমতাসীন সরকারের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখানে এত কথা বলার কারণ সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে কিছুদিন আগে পর্যন্ত গরিব ও স্বল্পবিত্ত মানুষের যে সামান্য সুযোগ-সুবিধা ছিল তা ক্রমে সংকুচিত হয়ে বা কমে এসে এখন চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে একটা বাণিজ্যিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এই বাণিজ্য এখন শুধু ব্যক্তিবিশেষই করছে না, সরকারিভাবেও এই বাণিজ্য এখন এক বাস্তব ব্যাপার। ১৯৮৬ সালে এরশাদের শাসনামলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রথম চালু হয়েছিল। এর ফলে চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক রোগীকে টিকিট কেটে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হতো। তখনও পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল। ডাক্তারদের ফি তো ছিলই না, নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোনো টাকাপয়সা লাগত না এবং ওষুধপত্রও মোটামুটি বিনামূল্যেই রোগীদের দেওয়া হতো। এসব সুযোগ-সুবিধাই পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার হতে হতে এমন জায়গায় এসেছে, যেখানে বিনামূল্যে কিছুই হওয়ার উপায় নেই। রক্ত পরীক্ষা থেকে অন্য যে কোনো ধরনের পরীক্ষার জন্যই সরকারি হাসপাতালে টাকা দিতে হয়। ওষুধপত্রও বিনামূল্যে দেওয়া হয় না, দৌড়াদৌড়ি করে রোগীর লোকজনকে বাজার থেকে কিনতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এসব তো আছেই। এর ওপর এখন যে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে তাতে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের জন্যও ফি দিতে হবে! প্রাথমিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ২০০ টাকা ফির বিনিময়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের রোগী দেখানোর ব্যবস্থা হয়েছে! মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ, ক্যান্সার, লিভার, চক্ষু, নিউরু সাইনারি ইত্যাদি বিভাগের ডাক্তাররা বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ২০০ টাকা ফির বিনিময়ে রোগী দেখবেন। এর জন্য রোগীদের টিকিট কাটতে হবে। এই টিকিটে এক মাস পর্যন্ত ডাক্তার দেখানো যাবে। এক মাস পার হলে প্রয়োজনে আবার ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হবে (দৈনিক ইত্তেফাক ২১.৯.২০১১)।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কয়েক দিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাণগোপাল এক টেলিভিশন টক শোতে বলেন, তার উদ্যোগ ও প্রভাবেই সেখানে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বলাবাহুল্য, এ ব্যাপারে তার অতি উৎসাহ থাকলেও এটা যে সরকারি স্বাস্থ্যনীতির কাঠামোর মধ্যেই হয়েছে এতে সন্দেহ নেই। সরকারি নীতির বাইরে গিয়ে এ ধরনের কিছু করার ক্ষমতা কারও নেই। এই একই টক শোতে প্রাণগোপাল বলেন, তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন। তখন সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল খুব উন্নত এবং চিকিৎসা ছিল বিনামূল্যে। এখানকার সরকারি হাসপাতালে পর্যন্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা তো দূরের কথা ডাক্তারদের জন্য নতুনভাবে ফির ব্যবস্থা যিনি নিজের উদ্যোগে করছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের উন্নত চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে চিকিৎসার কথা বলতে তার কোনো অসুবিধা হলো না। না হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, তাদের মতো বেপরোয়া, জনস্বার্থের প্রতি শুধু উদাসীন নয়, রীতিমতো বিরুদ্ধভাবাপন্নদের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক। কাজেই সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশোনা করে আসা ডাক্তার প্রাণগোপালের পক্ষে রোগীদের জন্য এক প্রাণঘাতী ব্যবস্থা চালু করার ব্যাপারে তার উদ্যোগের কথা বলতে কোনো অসুবিধা হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আগেই বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ব্যবস্থা এখন চালু হচ্ছে, সেটা সরকারি স্বাস্থ্যনীতির কাঠামোরই অন্তর্গত। কাজেই এই ব্যবস্থা যে শুধু এই হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমন নয়। এটা ভাবাই এক অবাস্তব ব্যাপার। সরকারি নীতির আওতায় এ ব্যবস্থা অল্পদিনের মধ্যেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিয়ে অন্য সব সরকারি হাসপাতালেই চালু হবে। গ্রামাঞ্চলে সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোও এই নববিধানের আওতার বাইরে থাকবে না। এভাবে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গরিব ও মধ্যবিত্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা লাভের সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হবে। এর পরিণতিতে দেশের অধিকাংশ লোকেরই বিনা চিকিৎসায় রোগভোগ ও মৃত্যুবরণ ছাড়া অন্য উপায় থাকবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারি আমলারা, এমনকি জজ সাহেবরা সরকারি অর্থে দেশে ও বিদেশে নিজেদের চিকিৎসা করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন। এই ব্যয় জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে করা হচ্ছে। কিন্তু যারা উপরোক্ত ক্ষমতাবান লোকদের চিকিৎসার জন্য এই বড় আকারে ব্যয়ভার বহন করছেন তাদের নিজেদের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা তো দূরের কথা মোটামুটি একটা ব্যবস্থাও নেই! সামান্য যে ব্যবস্থা আগে ছিল সেটাও বন্ধ করে, সব রকম সরকারি ভর্তুকি প্রত্যাহার করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এখন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি যে দেশে ও যে শাসন ব্যবস্থায় বিরাজ করে তাকে সভ্য ও গণতান্ত্রিক বলা থেকে বড় মিথ্যাচার আর কী হতে পারে?&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-842267506454778485?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/842267506454778485/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/11/blog-post_02.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/842267506454778485'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/842267506454778485'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/11/blog-post_02.html' title='চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ সম্পূর্ণ হতে চলেছে'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-8723973318697697772</id><published>2011-11-02T06:20:00.000-07:00</published><updated>2011-11-02T06:20:07.877-07:00</updated><title type='text'>খাদ্যশস্যের জমি তেল ক্ষেত্রে পরিণত করে মানব জাতি ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করা হচ্ছে</title><content type='html'>&lt;div dir="ltr" style="text-align: left;" trbidi="on"&gt;বিশ্বে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি হচ্ছে এবং এই বৃদ্ধির কারণে খাদ্য চাহিদাও একইভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যের উত্পাদনও যে বৃদ্ধি পাচ্ছে না এমন নয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উত্পাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে পশ্চাত্পদ এবং অনুন্নত দেশে ক্ষুধা এখন এক ভয়াবহ জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। খাদ্যে ঘাটতি দেশগুলোতে বাইরে থেকে খাদ্য আমদানি করেই ঘাটতি যতটা সম্ভব পূরণ করতে হয়। কিন্তু এভাবে সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ করা অধিকাংশ দেশের পক্ষেই সম্ভব হয় না এবং এসব দেশে ক্ষুধা এক বড় আকারের সমস্যা হিসেবেই দেখা যায়। বাংলাদেশ এই ধরনেরই একটা দেশ। সরকারের নির্লজ্জ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্যমন্ত্রী দেশে কোনো খাদ্য সঙ্কট নেই এবং সরকারি গুদামগুলোতে যথেষ্ট খাদ্য মজুত আছে, একথা বললেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ঘরে এখন প্রয়োজনীয় খাদ্যের সংস্থান নেই। তারা প্রায় অভুক্ত এবং অর্ধভুক্ত থেকেই জীবন কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গতকাল ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রকাশিত Global Hunger Index (GHI) ২০১১-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বে biofuel বা খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন খুব দ্রুত বৃদ্ধি এবং খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশগুলো কর্তৃক খাদ্য রফতানি কমিয়ে দেয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে এবং এর দ্বারা বাংলাদেশের মতো দেশ ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। (Daily Star, 12.10.2011) ২০০৭-০৮ সাল থেকে এ কারণে খাদ্য খাতে বাংলাদেশের মানুষকে ১২ শতাংশ বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এমনিতেই অভাবগ্রস্ত লোকদের চিকিত্সা, শিক্ষা ইত্যাদি খাতে খরচ বহন করা ঠিকমত হয় না, তার ওপর খাদ্য বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খাদ্য ক্ষেত্রে সঙ্কট বৃদ্ধির একটা বড় কারণ এখন দাঁড়িয়েছে উদ্বৃত্ত খাদ্য উত্পাদনকারী দেশগুলো কর্তৃক খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি তেল বা biofuel তৈরি হতে থাকা। এই শস্যভিত্তিক তেল শুধু উত্পাদিতই হচ্ছে না, এর পরিমাণ দিন দিন দ্রুত এবং আতঙ্কজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বুশের শাসন আমলেই বায়োফুয়েল তৈরি জোরেশোরে শুরু হয় এবং এর বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ সত্ত্বেও তিনি এভাবে জ্বালানি উত্পাদনের ব্যাপারে অনমনীয় থাকেন। তার পর এখন বারাক ওবামার সময়েও একইভাবে সেই নীতি কার্যকর হচ্ছে এবং বায়োফুয়েল উত্পাদনের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। খামার মালিকরা উত্তরোত্তর বেশি পরিমাণ জমি বায়োফুয়েল উত্পাদনের জন্যই ব্যবহার করছে। এর ফলে যেসব জমিতে আগে খাদ্য উত্পাদন হতো এবং উত্পাদিত খাদ্যশস্য রফতানি করা হতো তার পরিমাণ কমে আসছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে। কিন্তু শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ব্রাজিলের মতো দেশও খুব বড় আকারে কৃষিজমিকে তেল তৈরির জন্য শস্য উত্পাদন ক্ষেত্রে পরিণত করছে। এছাড়া তারা আমাজান বেসিন অঞ্চলে বিশাল বনভূমি উজাড় করে সেগুলোকে কৃষিজমিতে রূপান্তরিত করে সেখানে তেলের জন্য শস্য উত্পাদন করছে। এর ফলে যেমন একদিকে বনভূমি উজাড় হয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বায়োফুয়েল উত্পাদনের জন্য অন্য জমি ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। এক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ব্রাজিলের তথাকথিত বামপন্থী নেতা লুলার মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। তারা হাত ধরাধরি করেই এই সর্বনাশা ও মানবতাবিরোধী কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার মুখে উন্নত ও সেইসঙ্গে কিছু সংখ্যক উন্নয়নশীল দেশে কৃষিজমিকে মানুষের খাদ্য উত্পাদনের জন্য ব্যবহারের পরিবর্তে জ্বালানি উত্পাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। পেরু ও ভারতের মতো দেশও এখন এ কাজ করছে!!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে ভুট্টা, গম ও চালের সব থেকে বড় সরবরাহকারী। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশও ভুট্টা ও গম রফতানিকারক। কিন্তু এই দেশগুলো এখন যেভাবে মানুষের খাদ্যের পরিবর্তে জ্বালানির জন্য শস্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর বেশি জমি ব্যবহার করছে তাতে এই নীতি এই মুহূর্তেই পরিবর্তন না করলে মানবজাতি এক গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত হবে এবং এর ফলে বর্তমানে খাদ্যাভাবে যত লোকের মৃত্যু হয় তার থেকে অনেক বেশি হারে, কোটি কোটি লোক মারা যাবে এবং অন্য আরও কোটি কোটি লোক অনাহার-অর্ধাহারে থেকে আধুনিক সভ্যতাকে কলঙ্কিত করবে। কিন্তু এই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো ও সেইসঙ্গে অন্য কয়েকটি দেশ এভাবে খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি উত্পাদনের নীতিতে অটল থেকে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার রাজ্য সম্প্রসারিত করছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ কাজ করার জন্য কোনো হইচইয়ের প্রয়োজন হয় না। কাজেই উপরোক্ত দেশগুলোতে নীরবেই এ কাজ হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে শুধু মানব খাদ্যের জন্য শস্য উত্পাদনের পরিমাণই কমবে তা-ই নয়, গরুর চারণভূমিও একইভাবে কমে এসে বিশ্বে আমিষ খাদ্যেরও ঘাটতি তৈরি করবে। ঘাটতি তৈরি করবে দুধের। জমিই হচ্ছে মানুষের খাদ্য উত্পাদনের মূল ক্ষেত্র। জমি খাদ্য উত্পাদন ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেয়া হতে থাকলে সব রকম খাদ্যেরই সঙ্কট দেখা দেবে। এখন যেমন আমাজান বেসিনের গাছ পাইকারি হারে কেটে ফেলে জ্বালানি উত্পাদন করা হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে ফলের বাগানও ধ্বংস করে সেই জমি এ কাজে ব্যবহৃত হবে। এটা কোনো অলস কল্পনা নয়। অহেতুক ভয় সৃষ্টির জন্যও একথা বলা হচ্ছে না। যেভাবে জ্বালানির জন্য মরিয়া হয়ে পুঁজি মালিক শ্রেণী ও সাম্রাজ্যবাদীরা খাদ্যের জমি জ্বালানি উত্পাদনের জন্য বর্ধিত হারে ব্যবহার করছে তাতে খাদ্য উত্পাদনের জন্য সবধরনের জমিই যে তাদের দ্বারা আক্রান্ত হবে এতে সন্দেহ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রেসিডেন্ট বুশের শাসন আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন বড় আকারে শস্য থেকে জ্বালানি উত্পাদন শুরু করে এবং তার সঙ্গে ব্রাজিলও এই অপকর্মে যুক্ত হয়, তখন থেকেই আমরা এর প্রতিবাদ করে আসছি। কিন্তু এই ধরনের ক্ষীণ প্রতিবাদ মাঠেই মারা যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির প্রতিবাদ যেভাবে ও যে আকারে বিশ্বজুড়ে হওয়া দরকার তার কিছুই হচ্ছে না। জাতিসংঘের Food and Agricultural Organization (FAO) বিশ্বের খাদ্য সম্পর্কিত অনেক বিষয়ে তদারকি করে। কিন্তু যেভাবে এখন খাদ্যশস্য ক্ষেত্র ক্রমবর্ধিত হারে জ্বালানির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে তার কোনো প্রতিবাদ তাদের পক্ষ থেকে দেখা যায় না। আসলে এটা এমন এক বড় মাপের ঘাতক সমস্যা, যা জাতিসংঘ কর্তৃক সর্বাধিক গুরুত্বসহকারে আলোচনার বিষয়। জাতিসংঘ কর্তৃক কৃষিজমি ব্যবহারের এই নীতি ও ধারা পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা দরকার। কিন্তু এসবের কিছুই হচ্ছে না। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো কৃষি ক্ষেত্রকে তেল ক্ষেত্রে পরিণত করতে এবং এই ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করতে কোনো অসুবিধা বোধ করছে না। তাদের দেখাদেখি ও তাদের দ্বারা উত্সাহিত হয়ে ভারত, আর্জেন্টিনা, পেরু, ব্রাজিলের মতো দেশ একই কাজ করছে। অদূর ভবিষ্যতে অন্য কিছু দেশও এই কাজে জমি ব্যবহার করবে। আফ্রিকার বিশাল অনাবাদি জমিও খাদ্য উত্পাদনের পরিবর্তে পরিণত হবে জ্বালানি ক্ষেত্রে। একথা বলাই বাহুল্য, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ তার নিয়ম অনুযায়ীই এ কাজ করছে। কাজেই বিশ্বে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ যতদিন থাকবে, বিশেষত সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন দেশের ওপর যতদিন থাকবে, ততদিন এই পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো ধরনের সম্ভাব্য চাপই তাদের এই পথ থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পুঁজিবাদ এখন পরিবেশ ধ্বংস থেকে নিয়ে অনেক কিছুই করছে, যার ফলে মানব জীবন শুধু বিপর্যস্তই নয়, ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে। মানব জীবনে অস্তিত্বের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মুখে বিশ্বজোড়া খাদ্য সঙ্কট তৈরি হয়ে শত শত কোটি মানুষকে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার ব্যবস্থা। এ কারণে মানব জাতিকে রক্ষার জন্য পুঁজিবাদ উত্খাত ছাড়া মানব জাতির সামনে আজ আর অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নেই। মানব জাতি যদি এ কাজে ব্যর্থ হয় তাহলে এই ব্যর্থতার দ্বারা সে নিজের ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করবে।&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-8723973318697697772?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/8723973318697697772/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/11/blog-post.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/8723973318697697772'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/8723973318697697772'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/11/blog-post.html' title='খাদ্যশস্যের জমি তেল ক্ষেত্রে পরিণত করে মানব জাতি ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করা হচ্ছে'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-9163029968210297743</id><published>2011-10-20T06:07:00.000-07:00</published><updated>2011-11-02T06:09:00.870-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='তথ্য প্রযুক্তি'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='শিক্ষা সমস্যা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='শিক্ষা'/><title type='text'>কিসের অগ্রাধিকার, ল্যাপটপের না পাঠাগারের?</title><content type='html'>&lt;div dir="ltr" style="text-align: left;" trbidi="on"&gt;স্বার্থান্ধ হলে এবং আত্মপ্রচারের জন্য অর্থাত্ বলা চলে স্বার্থান্ধ আত্মপ্রচারের জন্য দুর্নীতিপরায়ণ নিম্ন সংস্কৃতির লোক কতকিছুই না করে। যারা শুধু ক্ষমতাচর্চা করার জন্যই রাজনীতি করে, ক্ষমতায় বসে থাকে অথবা ক্ষমতায় বসার জন্য প্রাণপাত করে, তাদের মধ্যেই এটা দেখা যায় সব থেকে বেশি। এই আত্মপ্রচারের একটা দিক হলো, দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে বেপরোয়া প্রতিশ্রুতি প্রদান এবং অন্যদিক হলো, এমন সব চটকদার কাজ করা যার কোনো প্রকৃত মূল্য না থাকলেও প্রচারমূল্য আছে। বাংলাদেশে এখন জনগণের জন্য করার কতকিছু আছে তার হিসাব নেই। যেদিকেই তাকানো যায় সেদিকেই সমস্যা। এই অন্তহীন সমস্যার সাগরে মানুষ এখন হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্তু যারা ক্ষমতায় আছে ও যারা ক্ষমতাচর্চা করে তাদের কোনো চেষ্টা নেই এইসব সমস্যা চিহ্নিত করা, তার কারণ নির্দিষ্ট করা ও তার সমাধানের চেষ্টা করার। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষের জন্য যা বড় সমস্যা তার কোনো স্বীকৃতিই ক্ষমতাসীনদের কাছে নেই। উপরন্তু তারা জোরগলায় এইসব সমস্যাকে অস্বীকার করেই সমস্যা সমাধানের ভাব দেখিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু যাদের এ সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা আছে তারা এভাবে নির্লিপ্ত থাকলেও তাদের নিশ্চিন্তভাব জনগণের সমস্যার সমাধান করে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাছাড়া প্রায়ই দেখা যায় তারা এমনভাবে কোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যার মধ্যে তাদের আত্মপ্রচারণার একটা মুখোশ থাকে। কিন্তু প্রকৃত কাজ হয় না। প্রচলিত কথায় ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়ার ব্যাপারই এভাবে ঘটে থাকে। কয়েকদিন আগে সংবাদপত্রের সচিত্র রিপোর্টে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী কিছু স্কুল-ছাত্রছাত্রীকে ল্যাপটপ উপহার দিচ্ছেন। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার প্রসার! বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করার এক ‘সাহসী’ পদক্ষেপ!!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু আসল ব্যাপার কী? সাধারণভাবে শিক্ষাব্যবস্থার দিকে যদি তাকানো যায় তাহলে গুটিকতক স্কুলছাত্রের হাতে এই ল্যাপটপের শিক্ষাবিষয়ক কার্যকারিতা কতটুকু? কিছু স্কুলে বা ছাত্রদের সরকার কম্পিউটারও দিচ্ছে। অন্য এক সংবাদপত্রের রিপোর্টে দেখা গেল, এ বিষয়ে ঢাকার ঝিগাতলার এক বৃদ্ধ রিকশাচালক বলছেন যে, সরকার কম্পিউটার দিচ্ছে কিন্তু তার আগে সরকারের দরকার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা। ঠিকই। বিদ্যুত্ সরবরাহে যেখানে বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে সেখানে কম্পিউটার নিয়ে লাভ কতদূর? একেই তো বলে ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়া! সরকারি শিক্ষা প্রসার চেষ্টার এ তো গেল একটা দিক। কিন্তু এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক আছে। এর একটা হলো, বইপত্রের লভ্যতা। পাঠ্যপুস্তকের সমস্যা তো আছে কিন্তু তার সঙ্গে আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগার বা লাইব্রেরির অভাব, এগুলোতে পাঠযোগ্য বইয়ের অভাব, বই থাকলেও তার সংখ্যাল্পতার সমস্যা। শিক্ষার অর্থ শুধু ক্লাসের বই পড়া বা মুখস্থ করা নয়। শিক্ষার প্রত্যেক স্তরে পাঠ্যতালিকা বহির্ভূত বই পড়ার গুরুত্ব ছাত্রদের প্রকৃত শিক্ষার জন্য খুব প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ল্যাপটপ বা সাধারণ কম্পিউটার ছাত্রদের দেয়ার উদ্দেশ্য আপাতদৃষ্টিতে তা-ই। কিন্তু এর দ্বারা শিক্ষা কতদূর বিস্তৃত হতে পারে? সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য নতুন কলেজের লাইব্রেরিগুলোর অবস্থা যে চরম দুরবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়, এটা ওয়াকিবহাল লোকদের ভালোভাবেই জানা। গ্রাম ও ছোটখাটো মফস্বল শহরের স্কুলগুলোতে লাইব্রেরি বলতে কিছু নেই বললেই চলে। অপেক্ষাকৃত বড় শহরে স্কুলে নামমাত্র লাইব্রেরি থাকলেও সেগুলোর জন্য উপযুক্ত ঘর, আসবাবপত্র, আলমারি নেই। বইপত্রও বিশেষ নেই, থাকলেও তার মান এতই নিম্ন যে সেগুলো পড়ে কোনো সুশিক্ষা হয় না। বইগুলো ঠিক ছাত্রদের পাঠযোগ্য কি না, শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কি না, এটা দেখার জন্য প্রধান শিক্ষক থেকে অন্য শিক্ষকদের কারও মাথাব্যথা নেই। সাধারণত এসব লাইব্রেরি এত ছোট যে, শিক্ষকদের মধ্যে একজনকে লাইব্রেরি দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ তো গেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থাত্ স্কুল-কলেজ লাইব্রেরির কথা। বিদ্যাচর্চা ও শিক্ষালাভ মানুষ শুধু স্কুল-কলেজে পড়ার সময়েই করে না। ছাত্রজীবন উত্তীর্ণ হয়ে কোন দেশের মানুষ কত পড়াশোনা করে তার ওপরই নির্ভর করে একটা দেশের মানুষের শিক্ষার মান ও জনগণের সংস্কৃতিচর্চার সব থেকে বড় শর্ত। দেখা যাবে যে, কয়েকজন ছাত্রকে ল্যাপটপ দিলেও সাধারণভাবে বাংলাদেশে কার্যকর লাইব্রেরি ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত কিছু কিছু লাইব্রেরি আছে। সরকারও রাজধানী এবং জেলাশহরসহ অন্য এলাকায় কিছু লাইব্রেরি পরিচালনা করে। বেসরকারি লাইব্রেরিকেও কিছু অনুদান দিয়ে থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ লাইব্রেরিগুলোর অবস্থা ভালো নয়। এগুলোতে বই কেনার জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে সেটা হাস্যকর। হাস্যকর, কারণ এর দ্বারা একটি লাইব্রেরির জন্য প্রয়োজনীয় বইপত্র সামান্যই কেনা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় যে, লাইব্রেরির জন্য বরাদ্দকৃত টাকা লাইব্রেরিয়ান ও অন্য কর্মচারীদের বেতন দিতেই শেষ হয়। অন্য খুচরা কাজেও টাকা লাগে। তারপর বই কেনার জন্য টাকা আর বিশেষ থাকে না! এক্ষেত্রে আর এক সমস্যা হলো, বই কেনার টাকা দিয়ে যেসব বইপত্র কেনা হয় সেগুলো ছাত্রদের পাঠের উপযুক্ত নয়। সেগুলোর মধ্যে সস্তা উপন্যাস, গল্প ইত্যাদি এমনসব থাকে যা পড়ে ছাত্রদের শিক্ষালাভের উপায় থাকে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিছুদিন আগে সরকার বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে সরাসরি বই কিনে কিছু স্কুলে বিতরণের একটা ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু চরম দুর্নীতি সেই ব্যবস্থাকে ভণ্ডুল করেছে। সত্ ও সুষ্ঠুভাবে এই কর্মসূচিকে কাজে লাগালে প্রকাশনা সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হতো। কিন্তু দেখা গেল যে, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয় সরকারের সময়েই দলীয় ভিত্তিতে প্রকাশকদের থেকে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বই কিনতে শুরু করল, দলের সঙ্গে সম্পর্কিত লেখকদের বই ছাড়া অন্য কারও বই তাদের ক্রয় তালিকায় স্থান পেল না এবং এর সুযোগ নিয়ে প্রকাশকরাও আবর্জনাতুল্য দলীয় বইপত্র ছেপে সরকারকে বিক্রি করল। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু প্রকাশনা সংস্থা ও অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ আমলা বিপুল পরিমাণ অর্থ পকেটস্থ করল। শেষ পর্যন্ত এটা এমন এক প্রকাশ্য কেলেঙ্কারিতে পরিণত হলো, যাতে সরকার এই ব্যবস্থা স্থগিত করতে বাধ্য হলো। সরকারি বই ক্রয়ের এই কেলেঙ্কারির মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো যে, বাংলাদেশের মতো দুর্নীতিকবলিত দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো চরম দুর্নীতিবাজদের এক ঘৃণিত আখড়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ল্যাপটপ, কম্পিউটার শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। কিন্তু সবকিছু প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকারের একটা ব্যাপার আছে। সরকারের ওপর দেশের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণভাবে নাগরিকদের শিক্ষার একটা দায়িত্ব আছে। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারের দেখা দরকার একজন ছাত্রকে ল্যাপটপ দেয়া বা সাধারণ কম্পিউটার দেয়া, না তাদের পাঠাগার সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন বেশি। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার যে পাঠাগারের এ বিষয়ে কোনো সুস্থ চিন্তা করা লোকের সংশয় থাকার কথা নয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হিসেবে লাইব্রেরির অগ্রাধিকার অবশ্যই আছে। কিন্তু এই অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনার বিষয় নয়। তাদের বিবেচনার বিষয় কিসে তাদের আত্মপ্রচারণা বেশি হতে পারে। কী কাজ করলে এই আত্মপ্রচারণার মাধ্যমে ভোট পাওয়ার সুবিধা হয়। দেশের ও জনগণের জন্য এটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা।&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-9163029968210297743?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/9163029968210297743/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/10/blog-post.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/9163029968210297743'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/9163029968210297743'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/10/blog-post.html' title='কিসের অগ্রাধিকার, ল্যাপটপের না পাঠাগারের?'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-7505079578872335948</id><published>2011-10-18T06:09:00.000-07:00</published><updated>2011-11-02T06:11:26.695-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='পানি সংকট'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নাগরিক সমস্যা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ভূগর্ভস্থ পানির স্তর'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='পরিবেশ বিপর্যয়'/><title type='text'>চরম পানি সংকটের মুখে বাংলাদেশ</title><content type='html'>&lt;div dir="ltr" style="text-align: left;" trbidi="on"&gt;বাংলাদেশ এখন বহুমুখী বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এসব বিপর্যয়ের মধ্যে সব থেকে মারাত্মক ও বিপজ্জনক হচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়। বিষয়টি যে এ দেশের লোকদের অজানা এমন নয়। কিন্তু তা হলেও এ জানার মধ্যে কোনো গভীরতা নেই। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে অস্বচ্ছভাবে কিছু জানা থাকলেও এ নিয়ে কোনো আতঙ্ক তো দূরের কথা, উদ্বেগও সাধারণভাবে নেই। হাতেগোনা কয়েকজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ছাড়া এ নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা বা নড়াচড়া কোনো মহলে নেই। এ ক্ষেত্রে যাদের করণীয় সব থেকে বেশি এবং যারা এ বিষয়টি হাতে না নিলে কিছুই হওয়ার নয়, সেই সরকার ও শাসকশ্রেণীর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা কী করে ক্ষমতায় টিকে থাকবে এবং ক্ষমতার বাইরে থাকলে কী করে ক্ষমতা আবার দখল করবে, এই চিন্তাই তাদের সমস্ত চেতনাকে আচ্ছন্ন ও গ্রাস করে রাখে। কাজেই এর বাইরে দেশের বহুবিধ গুরুতর সমস্যা নিয়ে চিন্তাভাবনা, কর্তব্য নির্ধারণ ও কর্তব্য পালন ক্ষেত্রে এরা বাস্তবত কিছুই করে না। খুব জোর তারা যা করে সেটা বাগাড়ম্বর সৃষ্টি ছাড়া অন্য কিছু নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরিবেশ বিপর্যয় শুধু এক প্রকার নয়। এরও নানা প্রকার আছে। তবে এই নানা প্রকার বিপর্যয়ের মধ্যে সব থেকে গুরুতর হলো পানির সমস্যা। খাওয়ার পানি এবং কৃষি কাজ থেকে নিয়ে অন্য প্রয়োজনে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ বাংলাদেশে আতঙ্কজনকভাবে কমে আসছে। এটা হচ্ছে একদিকে সরবরাহ ও লভ্যতার ক্ষেত্রে ঘাটতি এবং অন্যদিকে পানি দূষিতকরণের কারণে। বাংলাদেশ চিরকাল নদীমাতৃক দেশ, নদীনালা, খালবিলের দেশ হিসেবে পরিচিত। এ দেশে পানির অভাবের কথা আগে কেউ কোনোদিন চিন্তাও করত না। কিন্তু এখন সেই নদীমাতৃক দেশে পানির অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে সব থেকে বড় প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত সমস্যা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে ছোট-বড় নদীর সংখ্যা শতাধিক। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশেরই উৎপত্তিস্থল ভারতে। পদ্মা (গঙ্গা), ব্রহ্মপুত্র, যমুনার মতো প্রধান ও বিশাল নদীর উৎপত্তিস্থল তিব্বতে হলেও এগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভারতের মধ্য দিয়ে। এই নদীগুলোতে আগে যে জলপ্রবাহ ছিল এখন আর তা নেই। শুধু তাই নয়, এই নদীগুলো শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে এত শীর্ণ হয় ও মাঝে মধ্যে এত শুকিয়ে যায় যে তার ওপর দিয়ে মানুষ, জীবজন্তু, এমনকি যানবাহন পর্যন্ত চলাচল করে! এ দৃশ্য আগে কল্পনাতীত ছিল। বড় নদীগুলোর এই অবস্থার কারণে ছোট নদীগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। দিন দিন এ অবস্থা আরও শোচনীয় হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। চালই এখানকার প্রধান খাদ্য। আজকাল কিছু গম ও ভুট্টার চাষ হলেও ধানই প্রধান শস্য। জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি হতে থাকার ফলে এখানে খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজন বাড়ছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় এখানে জনসংখ্যা ছিল সাত কোটির মতো। এখন এই সংখ্যা দ্বিগুণের থেকে বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটির মতো। এই দ্বিগুণ লোকের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য এখন খাদ্য উৎপাদনও সেই অনুপাতে বাড়াতে হয়েছে। এ জন্য কিছু অনাবাদি জমি নতুন করে আবাদযোগ্য করা হলেও অধিকাংশ জমিতে আগে যেখানে এক ফসল হতো, এখন সেখানে ফসল হচ্ছে বছরে দু'তিনটি। এর জন্য আগের তুলনায় কৃষি কাজের পানির প্রয়োজনও বেড়েছে দ্বিগুণের থেকে বেশি। নদীর পানি কমে আসতে থাকা এবং অনেক নদী মৃত নদীতে পরিণত হওয়ার কারণে ভূমির উপরিভাগ থেকে লভ্য পানির পরিমাণ ভয়ানক কমে এসেছে এবং ক্রমেই আরও কমে আসার পথে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি কাজের জন্য পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে মাটির নিচ থেকে পানি টেনে ওপরে নিয়ে এসে। এর জন্য বাংলাদেশে এখন গ্রামাঞ্চলে লাখ লাখ পাওয়ার পাম্প বসানো হয়েছে। এগুলো উপরিভাগের পানি সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করছে। আগে সেচ ব্যবস্থায় ক্যানাল, ছোট ছোট খাল ও নালার মাধ্যমে যে পানি সরবরাহ হতো সেটা আসত সবটাই উপরিভাগের পানি থেকে অর্থাৎ প্রধানত নদী থেকে। কারণ নিচের পানি টেনে ওপরে তোলার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ভারতে বিভিন্ন অঞ্চলে বড় বড় গভীর কুয়া থেকে পানি তুলে যেভাবে কৃষি জমিতে সরবরাহ করা হতো এবং এখনও করা হয়ে থাকে সেটা এই অঞ্চলে ছিল না। যদিও সামান্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছোটখাটো কুয়া বা নলকূপের ব্যবহার দেখা যেত। কাজেই মাটির নিচের পানি কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার বাংলাদেশে নতুন ব্যাপার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কৃষি কাজের জন্যই শুধু নয়। ঢাকাসহ অন্য অনেক শহরে অকৃষি কাজে, সাধারণ ব্যবহারের জন্য এখন ভূগর্ভের বা মাটির নিচের পানি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় ঢাকায় সরবরাহকৃত পানির তিন-চতুর্থাংশই এখন মাটির নিচ থেকে টেনে আনা হয়। এ জন্য ওয়াসা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাম্প বসিয়ে এই সরবরাহের কাজ করছে। কাজেই শুধু গ্রামাঞ্চলে কৃষি কাজের জন্যই নয়, অন্য কাজের জন্যও উপরিভাগের পানির পরিবর্তে নিচের পানিই ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যা লক্ষণীয় তা হচ্ছে, ওপরের পানি যতটা ব্যবহার করা সম্ভব তার কোনো চেষ্টাই এখন শাসন কর্তৃপক্ষ করছে না। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার মতো নদী থাকলেও এগুলোর পানি শুদ্ধ করে ঢাকায় সরবরাহের দিকে এদের কোনো প্রকৃত দৃষ্টি নেই, এর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কোনো উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে দখলকারী থেকে নিয়ে দূষিতকরণ এবং অন্যান্য কারণে নদীগুলোতে পানির সরবরাহ কম ও পানি অব্যবহার্য হতে থাকার কারণে উপরিভাগের পানির সরবরাহ শহরে কমে আসছে। এই পরিস্থিতির চাপে নিচের পানি বর্ধিত পরিমাণে ওপরে টেনে তুলে ঢাকা শহরে পানির বিশাল চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। এ কাজ যে শুধু সরকারি কর্তৃপক্ষই করছে তাই নয়, ঢাকার অনেক বহুতল ভবনের পানি সরবরাহও এভাবেই হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য এগুলোতে যেমন জেনারেটর বসানো থাকে, তেমনি পানির ঘাটতি এবং সরবরাহের অনিয়মের কারণে পানির পাম্পও থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এভাবে ভূগর্ভের পানি ওপরে তুলে আনার কারণে পানির স্তর নিচে নামছে। সব থেকে বিপজ্জনক ব্যাপার এই যে, পানির স্তর এভাবে ক্রমেই নিচের দিকে নামছে। বর্ষার সময় বৃষ্টি হলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে তা যে পরিমাণ ঢুকত বা রিচার্জ হতো তাতে আগে কোনো অসুবিধা হতো না। যেটুকু পানি কুয়া বা নলকূপের মাধ্যমে ওপরে তোলা হতো তা এর ফলে পূরণ হতো। কোনো সংকট তৈরি হতো না। কিন্তু এভাবে পানি তোলার ফলে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন এক মহাসংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতেই এই সংকট পরিণত হবে এক প্রলয়ঙ্কর বিপর্যয়ে এবং এটা যখন ঘটবে তখন করার মতো বিশেষ কিছুই থাকবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যেতে থাকার ফলে ইতিমধ্যেই ঢাকা শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পানি ওপরে টেনে তোলা কষ্টসাধ্য হচ্ছে। তাছাড়া পানির স্তর একটা বিশেষ পর্যায়ে নেমে গেলে পানি তোলা আর সম্ভব হবে না, এই বিপদও বাংলাদেশের ঘাড়ের ওপর খড়্গের মতো ঝুলছে। এ ছাড়া অন্য ব্যাপারও আছে। পানি ওপরে তোলার ফলে ভূগর্ভে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, এই ফাঁকা জায়গা অল্পদিনের মধ্যেই লবণাক্ত পানিতে ভরে যাবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বঙ্গোপসাগরের পানির গড় উচ্চতার তুলনায় ইতিমধ্যে দেড়শ' ফুট নিচে নেমে গেছে। এর ফলে সমুদ্রের লোনা পানি দ্রুতগতিতে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে ঢাকা শহরের ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশের শর্ত তৈরি হয়েছে। এর আগে ঢাকার উত্তরাসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে পানি নেমে এসে ঢাকার ভূ-অভ্যন্তরের ফাঁকা স্থান পূরণ করত। কিন্তু এখন লবণ পানি দ্রুতগতিতে উত্তর দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এর পরিণামে সারাদেশে কোনো অঞ্চলই লবণ পানির এই আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে না। ইতিমধ্যেই বিএডিসির ৪ হাজার পর্যবেক্ষণ নলকূপের মধ্যে ২ হাজার ৩০০টিতে সমুদ্রের লোনা পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে (সকালের খবর, ১৭.১০.২০১১)। এই প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়ে কিছুদিনের মধ্যেই যে সমগ্র বাংলাদেশে এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এর সংকেত এর মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে যে শুধু খাওয়ার পানির সংকট সৃষ্টি হবে তাই নয়, লবণাক্ত পানির কারণে কৃষিতেও বিপর্যয় সৃষ্টি হবে এবং তার ফলে সৃষ্টি হবে ভয়াবহ খাদ্য সংকট।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এসব কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়। এ হলো বাস্তব সম্ভাবনা। কিন্তু এই বিপদের সম্ভাবনা নিয়ে যেখানে সরকার ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে চিন্তা, উদ্বেগ এবং আলাপ-আলোচনা হওয়ার কথা তার কিছুই হচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হয়, যাদের এ বিষয় নিয়ে তোলপাড় করার কথা তারা বেশ নিশ্চিন্তেই আছে!&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-7505079578872335948?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/7505079578872335948/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/10/blog-post_18.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7505079578872335948'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7505079578872335948'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/10/blog-post_18.html' title='চরম পানি সংকটের মুখে বাংলাদেশ'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-4165209554249068834</id><published>2011-10-13T06:18:00.000-07:00</published><updated>2011-11-02T06:19:20.247-07:00</updated><title type='text'>খাদ্যশস্যের জমি তেল ক্ষেত্রে পরিণত করে মানব জাতি ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করা হচ্ছে</title><content type='html'>&lt;div dir="ltr" style="text-align: left;" trbidi="on"&gt;বিশ্বে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি হচ্ছে এবং এই বৃদ্ধির কারণে খাদ্য চাহিদাও একইভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যের উত্পাদনও যে বৃদ্ধি পাচ্ছে না এমন নয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উত্পাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে পশ্চাত্পদ এবং অনুন্নত দেশে ক্ষুধা এখন এক ভয়াবহ জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। খাদ্যে ঘাটতি দেশগুলোতে বাইরে থেকে খাদ্য আমদানি করেই ঘাটতি যতটা সম্ভব পূরণ করতে হয়। কিন্তু এভাবে সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ করা অধিকাংশ দেশের পক্ষেই সম্ভব হয় না এবং এসব দেশে ক্ষুধা এক বড় আকারের সমস্যা হিসেবেই দেখা যায়। বাংলাদেশ এই ধরনেরই একটা দেশ। সরকারের নির্লজ্জ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্যমন্ত্রী দেশে কোনো খাদ্য সঙ্কট নেই এবং সরকারি গুদামগুলোতে যথেষ্ট খাদ্য মজুত আছে, একথা বললেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ঘরে এখন প্রয়োজনীয় খাদ্যের সংস্থান নেই। তারা প্রায় অভুক্ত এবং অর্ধভুক্ত থেকেই জীবন কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গতকাল ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রকাশিত Global Hunger Index (GHI) ২০১১-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বে biofuel বা খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন খুব দ্রুত বৃদ্ধি এবং খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশগুলো কর্তৃক খাদ্য রফতানি কমিয়ে দেয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে এবং এর দ্বারা বাংলাদেশের মতো দেশ ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। (Daily Star, 12.10.2011) ২০০৭-০৮ সাল থেকে এ কারণে খাদ্য খাতে বাংলাদেশের মানুষকে ১২ শতাংশ বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এমনিতেই অভাবগ্রস্ত লোকদের চিকিত্সা, শিক্ষা ইত্যাদি খাতে খরচ বহন করা ঠিকমত হয় না, তার ওপর খাদ্য বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খাদ্য ক্ষেত্রে সঙ্কট বৃদ্ধির একটা বড় কারণ এখন দাঁড়িয়েছে উদ্বৃত্ত খাদ্য উত্পাদনকারী দেশগুলো কর্তৃক খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি তেল বা biofuel তৈরি হতে থাকা। এই শস্যভিত্তিক তেল শুধু উত্পাদিতই হচ্ছে না, এর পরিমাণ দিন দিন দ্রুত এবং আতঙ্কজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বুশের শাসন আমলেই বায়োফুয়েল তৈরি জোরেশোরে শুরু হয় এবং এর বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ সত্ত্বেও তিনি এভাবে জ্বালানি উত্পাদনের ব্যাপারে অনমনীয় থাকেন। তার পর এখন বারাক ওবামার সময়েও একইভাবে সেই নীতি কার্যকর হচ্ছে এবং বায়োফুয়েল উত্পাদনের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। খামার মালিকরা উত্তরোত্তর বেশি পরিমাণ জমি বায়োফুয়েল উত্পাদনের জন্যই ব্যবহার করছে। এর ফলে যেসব জমিতে আগে খাদ্য উত্পাদন হতো এবং উত্পাদিত খাদ্যশস্য রফতানি করা হতো তার পরিমাণ কমে আসছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে। কিন্তু শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ব্রাজিলের মতো দেশও খুব বড় আকারে কৃষিজমিকে তেল তৈরির জন্য শস্য উত্পাদন ক্ষেত্রে পরিণত করছে। এছাড়া তারা আমাজান বেসিন অঞ্চলে বিশাল বনভূমি উজাড় করে সেগুলোকে কৃষিজমিতে রূপান্তরিত করে সেখানে তেলের জন্য শস্য উত্পাদন করছে। এর ফলে যেমন একদিকে বনভূমি উজাড় হয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বায়োফুয়েল উত্পাদনের জন্য অন্য জমি ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। এক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ব্রাজিলের তথাকথিত বামপন্থী নেতা লুলার মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। তারা হাত ধরাধরি করেই এই সর্বনাশা ও মানবতাবিরোধী কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার মুখে উন্নত ও সেইসঙ্গে কিছু সংখ্যক উন্নয়নশীল দেশে কৃষিজমিকে মানুষের খাদ্য উত্পাদনের জন্য ব্যবহারের পরিবর্তে জ্বালানি উত্পাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। পেরু ও ভারতের মতো দেশও এখন এ কাজ করছে!!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে ভুট্টা, গম ও চালের সব থেকে বড় সরবরাহকারী। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশও ভুট্টা ও গম রফতানিকারক। কিন্তু এই দেশগুলো এখন যেভাবে মানুষের খাদ্যের পরিবর্তে জ্বালানির জন্য শস্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর বেশি জমি ব্যবহার করছে তাতে এই নীতি এই মুহূর্তেই পরিবর্তন না করলে মানবজাতি এক গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত হবে এবং এর ফলে বর্তমানে খাদ্যাভাবে যত লোকের মৃত্যু হয় তার থেকে অনেক বেশি হারে, কোটি কোটি লোক মারা যাবে এবং অন্য আরও কোটি কোটি লোক অনাহার-অর্ধাহারে থেকে আধুনিক সভ্যতাকে কলঙ্কিত করবে। কিন্তু এই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো ও সেইসঙ্গে অন্য কয়েকটি দেশ এভাবে খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি উত্পাদনের নীতিতে অটল থেকে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার রাজ্য সম্প্রসারিত করছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ কাজ করার জন্য কোনো হইচইয়ের প্রয়োজন হয় না। কাজেই উপরোক্ত দেশগুলোতে নীরবেই এ কাজ হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে শুধু মানব খাদ্যের জন্য শস্য উত্পাদনের পরিমাণই কমবে তা-ই নয়, গরুর চারণভূমিও একইভাবে কমে এসে বিশ্বে আমিষ খাদ্যেরও ঘাটতি তৈরি করবে। ঘাটতি তৈরি করবে দুধের। জমিই হচ্ছে মানুষের খাদ্য উত্পাদনের মূল ক্ষেত্র। জমি খাদ্য উত্পাদন ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেয়া হতে থাকলে সব রকম খাদ্যেরই সঙ্কট দেখা দেবে। এখন যেমন আমাজান বেসিনের গাছ পাইকারি হারে কেটে ফেলে জ্বালানি উত্পাদন করা হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে ফলের বাগানও ধ্বংস করে সেই জমি এ কাজে ব্যবহৃত হবে। এটা কোনো অলস কল্পনা নয়। অহেতুক ভয় সৃষ্টির জন্যও একথা বলা হচ্ছে না। যেভাবে জ্বালানির জন্য মরিয়া হয়ে পুঁজি মালিক শ্রেণী ও সাম্রাজ্যবাদীরা খাদ্যের জমি জ্বালানি উত্পাদনের জন্য বর্ধিত হারে ব্যবহার করছে তাতে খাদ্য উত্পাদনের জন্য সবধরনের জমিই যে তাদের দ্বারা আক্রান্ত হবে এতে সন্দেহ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রেসিডেন্ট বুশের শাসন আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন বড় আকারে শস্য থেকে জ্বালানি উত্পাদন শুরু করে এবং তার সঙ্গে ব্রাজিলও এই অপকর্মে যুক্ত হয়, তখন থেকেই আমরা এর প্রতিবাদ করে আসছি। কিন্তু এই ধরনের ক্ষীণ প্রতিবাদ মাঠেই মারা যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির প্রতিবাদ যেভাবে ও যে আকারে বিশ্বজুড়ে হওয়া দরকার তার কিছুই হচ্ছে না। জাতিসংঘের Food and Agricultural Organization (FAO) বিশ্বের খাদ্য সম্পর্কিত অনেক বিষয়ে তদারকি করে। কিন্তু যেভাবে এখন খাদ্যশস্য ক্ষেত্র ক্রমবর্ধিত হারে জ্বালানির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে তার কোনো প্রতিবাদ তাদের পক্ষ থেকে দেখা যায় না। আসলে এটা এমন এক বড় মাপের ঘাতক সমস্যা, যা জাতিসংঘ কর্তৃক সর্বাধিক গুরুত্বসহকারে আলোচনার বিষয়। জাতিসংঘ কর্তৃক কৃষিজমি ব্যবহারের এই নীতি ও ধারা পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা দরকার। কিন্তু এসবের কিছুই হচ্ছে না। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো কৃষি ক্ষেত্রকে তেল ক্ষেত্রে পরিণত করতে এবং এই ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করতে কোনো অসুবিধা বোধ করছে না। তাদের দেখাদেখি ও তাদের দ্বারা উত্সাহিত হয়ে ভারত, আর্জেন্টিনা, পেরু, ব্রাজিলের মতো দেশ একই কাজ করছে। অদূর ভবিষ্যতে অন্য কিছু দেশও এই কাজে জমি ব্যবহার করবে। আফ্রিকার বিশাল অনাবাদি জমিও খাদ্য উত্পাদনের পরিবর্তে পরিণত হবে জ্বালানি ক্ষেত্রে। একথা বলাই বাহুল্য, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ তার নিয়ম অনুযায়ীই এ কাজ করছে। কাজেই বিশ্বে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ যতদিন থাকবে, বিশেষত সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন দেশের ওপর যতদিন থাকবে, ততদিন এই পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো ধরনের সম্ভাব্য চাপই তাদের এই পথ থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পুঁজিবাদ এখন পরিবেশ ধ্বংস থেকে নিয়ে অনেক কিছুই করছে, যার ফলে মানব জীবন শুধু বিপর্যস্তই নয়, ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে। মানব জীবনে অস্তিত্বের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মুখে বিশ্বজোড়া খাদ্য সঙ্কট তৈরি হয়ে শত শত কোটি মানুষকে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার ব্যবস্থা। এ কারণে মানব জাতিকে রক্ষার জন্য পুঁজিবাদ উত্খাত ছাড়া মানব জাতির সামনে আজ আর অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নেই। মানব জাতি যদি এ কাজে ব্যর্থ হয় তাহলে এই ব্যর্থতার দ্বারা সে নিজের ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করবে।&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-4165209554249068834?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/4165209554249068834/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/10/blog-post_13.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/4165209554249068834'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/4165209554249068834'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/10/blog-post_13.html' title='খাদ্যশস্যের জমি তেল ক্ষেত্রে পরিণত করে মানব জাতি ধ্বংসের পথই প্রশস্ত করা হচ্ছে'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-8561487338404248719</id><published>2011-10-09T06:31:00.000-07:00</published><updated>2011-11-02T06:33:36.785-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নিরাপত্তা পরিষদ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জাতিসংঘ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ'/><title type='text'>নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে হবে</title><content type='html'>&lt;div dir="ltr" style="text-align: left;" trbidi="on"&gt;দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ঘোষিত উদ্দেশ্য দেশে দেশে সুসম্পর্ক স্থাপন ও দুনিয়াজুড়ে শান্তিরক্ষার তদারকি হলেও, প্রথম থেকেই এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে ঠিকমতো কাজ হয়নি। উপরন্তু অল্পদিন পর থেকেই এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নক হিসেবে যে ভূমিকা সাধারণভাবে পালন করে এসেছে সেটা এর ঘোষিত উদ্দেশ্যের বিপরীতই বলতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো পশ্চাৎপদ ও দুর্বল দেশগুলোর ওপর যে শোষণ, নির্যাতন, হামলা, যুদ্ধ এবং দখলদারী চালিয়ে আসছে, তার হাতিয়ার হিসেবেই জাতিসংঘকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। প্রতিরোধের পরিবর্তে জাতিসংঘ এসবের অনুমোদক হিসেবেই কাজ করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত সংস্থা হিসেবে ছয় দশকের বেশি কাজ করার পরও এর এই ভূমিকার কোন পরিবর্তন তো হয়ইনি, উপরন্তু এদিক দিয়ে এর প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র বিশ্বের জনগণের সামনে আরও বেশি করে উন্মোচিত হচ্ছে। নতুন সহস্রাব্দের শুরুতেই সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে আফগানিস্তান ও ইরাক দখল করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদীরা সামরিক আগ্রাসনের জন্য জাতিসংঘকে যেভাবে ব্যবহার করেছে তার মধ্যেই স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, বিশ্বের বিপুল-অধিকাংশ দুর্বল দেশ, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের জন্য এর কোন প্রয়োজন নেই। যেভাবে ও যে নিয়ম-কানুনের অধীনে এই সংস্থাটি এখন পরিচালিত হচ্ছে তাতে একে একটি সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা ছাড়া অন্য কিছুই বলার উপায় নেই। সর্বশেষ ন্যাটো যুদ্ধ জোটের হাতিয়ার হিসেবে তাদের লিবিয়ায় আক্রমণের অনুমোদন দিয়ে জাতিসংঘ নিজেকে যে অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে তার মধ্যে এর সত্যতাই অভ্রান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রতিষ্ঠার সময়েই জাতিসংঘের কাঠামো, নিয়ম-কানুন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে এই সংস্থাটির পক্ষে তা সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। জাতিসংঘের দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে এর কার্যনির্বাহের উদ্দেশ্যে যে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হয় তার সদস্য সংখ্যা পনেরো, যার মধ্যে পাঁচ সদস্য স্থায়ী এবং দশ সদস্য নির্বাচিত। নির্দিষ্ট মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের এই অস্থায়ী সদস্যরা সাধারণ পরিষদের দ্বারা নির্বাচিত হন। স্থায়ী সদস্যদের গুরুত্ব ও ক্ষমতা শুধু তাদের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে না; এটা মূলত নির্ভর করে তাদের বিশেষ ক্ষমতার জন্য। এ ক্ষমতাটি হল, তাদের প্রত্যেকেরই ভেটো দেয়ার ক্ষমতা। এই ক্ষমতার জোরে তারা যে কোন প্রস্তাবকেই নাকচ করতে পারেন। শুধু অস্থায়ী সদস্যদের প্রস্তাবই নয়, অন্য যে কোন স্থায়ী সদস্যের প্রস্তাবও যে কোন স্থায়ী সদস্য এককভাবে ভেটো দিয়ে তা নাকচ করতে পারেন।&lt;br /&gt;নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা পাঁচ। এই সদস্যরা প্রতিষ্ঠার সময় ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। চীনে তখন ছিল চিয়াং কাইশেকের নেতৃত্বাধীন কুয়োমিন টাঙের শাসন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হওয়ায় একমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়। ১৯৪৯ সালে চীনা বিপ্লবের পর সমাজতান্ত্রিক চীন জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের স্থলাভিষিক্ত হয়। জার্মানি ও জাপান পরাজিত হয়ে যুদ্ধাপরাধী দেশ হিসেবে তখন জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা পনেরো হলেও অস্থায়ী সদস্যদের কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এতে নেই। নিয়ন্ত্রণের সব চাবিকাঠিই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে। স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতার জোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তার সাম্রাজ্যিক স্বার্থে জাতিসংঘকে ব্যবহার করে আসছে। যেহেতু দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদীরাই নিয়মিত হস্তক্ষেপ করে আসছে, সে কারণে তারাই নিজেদের প্রয়োজনে ভেটো ক্ষমতাকে দুর্বল ও তাদের প্রায় নির্ভরশীল দেশগুলোর বিরুদ্ধে সব সময়ই ব্যবহার করে। এদিক দিয়ে তাদের নীতি ও কর্মকৌশলের ধারাবাহিকতা আছে। এই ধারাবাহিকতা ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের মাটি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা থেকে নিয়ে লিবিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো যুদ্ধ জোটের সামরিক আগ্রাসন ও শেষ পর্যন্ত সে দেশটি দখলের সময় পর্যন্ত অব্যাহত আছে। জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য ফিলিস্তিনি প্রস্তাবের পক্ষে সংস্থাটির বিপুলসংখ্যক সদস্যের সমর্থন থাকলেও এই ১২৫ সদস্য দেশের ইচ্ছাকে কোন পাত্তা না দিয়ে ভেটোর জোরে তা নস্যাৎ করার চক্রান্ত শুধু নয়, ঘোষণাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই অবস্থায় জাতিসংঘ ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে নিজের কার্যনির্বাহ না করায় এবং এর বিপরীতে কাজ করে যাওয়ায় তার কোন নৈতিক অথবা বাস্তব প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে আর নেই। বস্তুত এই প্রয়োজন দীর্ঘদিন আগেই শেষ হলেও সাম্রাজ্যবাদ নিজের প্রয়োজনে একে টিকিয়ে রেখেছে এবং ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে। যখন তারা এই ব্যবহার ঠিকমতো করতে পারে না তখন তারা জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করে না। গায়ের জোর থাকায় এতে তাদের কোন অসুবিধা হয় না। ইরাক আক্রমণের সময় এটাই দেখা গিয়েছিল। শুধু জাতিসংঘ নয়, নিরাপত্তা পরিষদে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী মিত্রদেরও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্রিটেনকে ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক ভয়ংকর মিথ্যা অজুহাতে ইরাক আক্রমণ করেছিল। এই অজুহাত পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পরও তাদের কিছুই হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদ অথবা জাতিসংঘ তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া তো দূরের কথা, কোন নিন্দামূলক প্রস্তাবও গ্রহণ করতে পারেনি।&lt;br /&gt;দুনিয়া আর আগের অবস্থানে নেই। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্র শক্তিরা এখনও খুব শক্তিশালী হলেও তাদের শক্তিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রশ্ন এখন দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যের পরিবর্তে স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। অদূরভবিষ্যতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই যে মূল সমস্যার কোন সমাধান হবে না এবং জাতিসংঘ একটি অগণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবেই তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে, কোন আইনেই বাধা এক্ষেত্রে থাকবে না, এটা পরিষ্কার। কারণ যতদিন পর্যন্ত স্থায়ী সদস্যদের ভেটো দেয়ার ক্ষমতা থাকছে ততদিন এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। ততদিন পর্যন্ত এই সংস্থাকে সাম্রাজ্যবাদ অভিন্নভাবে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেই চলবে। কাজেই জাতিসংঘকে তার ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে একটি সংস্থা হিসেবে কার্যকর রাখতে হলে এর বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কারের এই দাবির মুখে স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে সাম্রাজ্যবাদীরা অন্যদের প্রতারণার চেষ্টাই করছে। কিন্তু এ প্রতারণা বোঝার অসুবিধা নেই। কাজেই সংস্কারের ক্ষেত্রে এখন যে মূল দাবি অবশ্যম্ভাবীরূপেই সামনে আসবে এবং আসতে শুরু করেছে, তা হল নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রহিত করা। এটা যতদিন না করা হচ্ছে, ততদিন জাতিসংঘ সাম্রাজ্যবাদের দুর্বৃত্তগিরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাজেই সারাবিশ্বে জনমত নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বাতিলের জন্য সোচ্চার হতে হবে। নিপীড়িত, নিয়ন্ত্রিত এবং পশ্চাৎপদ দেশ, যেসব দেশের জনগণের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক জাগরণ সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব দেশকে এখন জাতিসংঘের গণতান্ত্রিকীকরণ, জাতিসংঘকে সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে মুক্ত করার আন্দোলন প্রবলভাবে গড়ে তুলতে হবে। ফিলিস্তিনের সদস্যপদ সমর্থনের ক্ষেত্রে ১২৫টি দেশ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তা থেকে ব্যাপক ও কঠিন ঐক্য গড়ে তুলে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা রদ করার জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এ কাজ যাতে এই দেশগুলো করতে পারে সেজন্য এসব দেশের জনগণকেও এ দাবির পক্ষে প্রবলভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-8561487338404248719?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/8561487338404248719/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/11/blog-post_6520.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/8561487338404248719'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/8561487338404248719'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2011/11/blog-post_6520.html' title='নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে হবে'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-6955405398037429344</id><published>2011-10-04T06:35:00.000-07:00</published><updated>2011-11-02T06:36:41.142-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='শিক্ষা সমস্যা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বাংলাদেশের শিক্ষা সমস্যা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বাংলাদেশের শিক্ষা বাণিজ্য'/><title type='text'>শিক্ষা ব্যবস্থার ভাঙন :কোচিং সেন্টারের উদ্ভব ও বিস্তার</title><content type='html'>&lt;div dir="ltr" style="text-align: left;" trbidi="on"&gt;মানুষ যা কিছু কারবার করে, রাজনীতি, সংস্কৃতি থেকে নিয়ে শিক্ষা পর্যন্ত সবকিছুই গড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যবসাতেই পরিণত হয়। ব্যবসার মধ্যেই সবকিছু লয়প্রাপ্ত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে এবং বিশেষত স্কুল পর্যায়ে এখন যা ঘটছে তার মধ্যেও এটাই দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা এখন ব্যবসায় পরিণত হওয়ায় শিক্ষার মান শোচনীয়ভাবে কমে আসায় অনেক জৌলুস সত্ত্বেও সংস্কৃতি এখন ব্যবসার অধীন হয়েছে এবং সাধারণভাবে নৈতিকতার মান ভয়ঙ্করভাবে নিচে নেমেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে এখন শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ অবস্থা। বলা চলে, এই ব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়েছে। উচ্চশিক্ষার অবস্থা খারাপ, কিন্তু স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার অবনতি এখন যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে এটা এক আতঙ্কজনক ব্যাপার। এই আতঙ্কের কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঠিকমতো কাজ করছে না এবং এভাবে চলতে থাকলে এগুলো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ অকেজো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এটা গ্রামাঞ্চলে ও মফস্বল শহরগুলোর স্কুলের ক্ষেত্রেই শুধু নয়, রাজধানী ঢাকা শহরের স্কুলগুলো সম্পর্কেও প্রযোজ্য। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকার কয়েকটি বাছাই করা স্কুলের ভালো ফল এবং এই ভালো ফল করা উচ্ছ্বসিত ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজি 'ভি' চিহ্ন প্রদর্শন সত্ত্বেও এ কথা সত্য, এই ভালো ফল করা ছাত্রছাত্রীরা এসব স্কুলের ছাত্রী হলেও পরীক্ষায় ভালো ফলের কৃতিত্ব প্রকৃতপক্ষে স্কুলগুলোর নয়। এ কৃতিত্ব হচ্ছে এই স্কুলগুলোর কিছুসংখ্যক শিক্ষকের দ্বারা পরিচালিত কোচিং সেন্টারগুলোর। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ অন্য কয়েকটি বড় শহরের কিছু স্কুলের অবস্থাও একই রকম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, কিছুসংখ্যক স্কুলের সব ছাত্রই ফেল করেছে। অনেক স্কুলে সব ছাত্র ফেল না করলেও পাসের হার নগণ্য। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, এই স্কুলগুলো সব গ্রামাঞ্চলে এবং আর্থিক দুরবস্থার কারণে এগুলোতে শিক্ষকদের নিম্নমান থেকে নিয়ে শিক্ষা প্রদানের অন্যান্য উপকরণের অবস্থাও শোচনীয়। এই স্কুলগুলোতে গরিব ও নিম্নবিত্তদের ছেলেমেয়েরাই পড়াশোনা করে থাকে। অন্যদিকে ঢাকাসহ কয়েকটি বড় মফস্বল শহরের কিছু স্কুল যে ভালো করে সেগুলোর অর্থাভাব নেই। উপযুক্ত শিক্ষা থেকে নিয়ে শিক্ষার যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবও এগুলোতে নেই। কাজেই এগুলোতে ছাত্রছাত্রীরা গ্রামাঞ্চলের অর্থাভাবগ্রস্ত স্কুলগুলো থেকে শিক্ষার সুযোগ অনেক বেশি পেয়ে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, স্কুলগুলোর অবস্থা যাই হোক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুলের সিলেবাস বা পাঠ্য বিষয়ের দিকে তাকালে দেখা যাবে তার অবস্থা শোচনীয়। এই সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করে ছাত্রছাত্রীরা খুব ভালো ফল করলেও তাদের বিশেষ শিক্ষা হয় না, অন্তত এই পর্যায়ে যে শিক্ষা হওয়া দরকার তা হয় না। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার, স্কুল পর্যায়ে ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেভাবে পড়া দরকার তার কিছুই হয় না। না হওয়ার কারণ, পাঠ্যসূচিতে ইতিহাস বলে কোনো বিষয় পড়ানো হয় না, যেমন আগে হতো। সমাজবিজ্ঞান নামে এক বিষয়ের মধ্যে মাত্র কয়েক পৃষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে যা থাকে সেটা মোটেই ইতিহাস পদবাচ্য নয়। আগে ম্যাট্রিকুলেশন (যা বর্তমানে এসএসসির সমতুল্য) পর্যায়ে ভারতবর্ষের প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক ইতিহাসের ওপর একটা পেপার থাকত এবং সেটা পড়লে নিজেদের দেশের ইতিহাসের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের একটা পরিচয় হতো। ইন্টারমিডিয়েট (যা বর্তমানে এইচএসসির তুল্য) পর্যায়ে ভারতের ইতিহাস ছাড়াও থাকত ইংল্যান্ড ও ইউরোপের ইতিহাস। এখন তার কোনো নাম-নিশানাই এইচএসসি বা এসএসসির সিলেবাসে নেই। ইতিহাসের নামে এখানে যে স্থূল কারবার করা হয় তা হলো, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তাদের দলের নেতাদের ইতিহাসের নায়ক বানিয়ে নানা ধরনের অসত্য কাহিনী ইতিহাসের নামে পরিবেশন করা। এভাবে পরিবেশিত ইতিহাসে পাওয়া যায় কে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল তার কথা। এতে পাওয়া যায় জনগণ নয়, দেশের অন্য কেউই নয়, শুধু ক্ষমতাসীন দলের নেতাই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, দেশের পরিত্রাতা! এই 'ইতিহাস' থেকে মনে হয়, ১৯৭১ সালের আগে এ দেশের ইতিহাস বলে কিছু ছিল না। ইতিহাসের শুরু ১৯৭১ সালে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিলেবাসের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, স্কুল বা স্কুলের শিক্ষকরা ভালো হলেও যদি পাঠ্য বিষয়ের মধ্যে জ্ঞান লাভের মতো কোনো কিছু না থাকে, তাহলে শিক্ষা পরিণত হয় এক ভুয়ো ব্যাপারে। ইতিহাসকে বিষয় হিসেবে প্রকৃতপক্ষে সিলেবাস থেকে উচ্ছেদ করে দিয়ে শিক্ষাকে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো মহলের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা আছে এমন মনে হয় না। যে দেশের এই অবস্থা সে দেশের ছাত্রছাত্রীদের এর থেকে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শুধু পাঠ্য বিষয় হিসেবে ইতিহাস উচ্ছেদ করাই নয়, এই দুই পর্যায়ের সমগ্র সিলেবাসের দিকে যদি তাকানো যায় তাহলে শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু সিলেবাসের দারিদ্র্যের কারণেই যে অবস্থা তৈরি করে রাখা হয়েছে তাকে ভয়াবহ ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। কাজেই এই সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে কোনো ছাত্র যদি সোনার মেডেল পায় তা হলেও তার বিশেষ কিছু শিক্ষা অর্জিত হয়েছে এমন বলার উপায় নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ তো গেল শিক্ষা ব্যবস্থার একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর অন্য দিক হলো, স্কুল পর্যায়ে শিক্ষাদানের পদ্ধতি। যেসব স্কুলে এইচএসসি পরীক্ষায় সব ছেলে ফেল করে অথবা হাতেগোনা কয়েকজন পাস করে সেগুলোতে এটা ঘটার প্রধান কারণ শিক্ষকদের অতি নিম্নমান ও শিক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব। ঢাকা, চট্টগ্রাম ইত্যাদি বড় শহরের কয়েকটি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত ভালো ফল করার কারণ এই স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের মান ভালো এবং শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণের লভ্যতা। কিন্তু যে বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে বলা দরকার তা হলো, এই স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের মান ভালো হলেও স্কুলে যেটুকু শিক্ষা দেওয়া হয় তার জন্যই এগুলোর ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফল ভালো হয় না। এখন এই ভালো ফল নির্ভর করে ছাত্রছাত্রীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত কোচিং সেন্টারগুলোতে হাজার হাজার টাকা মাসে ব্যয় করে পড়ছে কি-না তার ওপর। এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে এসব স্কুলের নিচু ক্লাসগুলোতে শিক্ষকরা মোটামুটি ঠিকমতো পাঠদান করলেও ওপরের ক্লাসগুলোতে শিক্ষকরা পাঠদান করেন না বললেই চলে। বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলোতে এইচএসসি, এসএসসি এবং ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে ও-লেভেল এ-লেভেল পরীক্ষা সামনে রেখে উঁচু ক্লাসের শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের ক্লাসে বাস্তবত কিছুই পড়ান না। এই স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মাসে অনেক বেতন দিতে হয়। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে হয়! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অথচ এগুলোতে উঁচু ক্লাসে কোনো শিক্ষা দেওয়া হয় না। শিক্ষকরা ক্লাসে কোনো পাঠদান না করে ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য করেন তাদের কোচিং সেন্টারে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে! এই কোচিং সেন্টারগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মাসিক বেতন দিতে হয় হাজার হাজার টাকা। শুধু যে তাদের এই উঁচু বেতন দিতে হয় তাই নয়, তারা ও তাদের অভিভাবকরা নিজেদের কাজের সঙ্গে এই কোচিং সেন্টারগুলোতে যাওয়া-আসার দৌড়াদৌড়িতে এমন হয়রান হন, যা তাদের সকলের স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। কোনো সভ্য দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ অবহেলা করে এভাবে ব্যবসাদারে পরিণত হতে পারেন না। কিন্তু বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে এখন এই অবস্থাই চলছে। শিক্ষকরা আজ তাদের পেশাগত দায়িত্ববোধ সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে ষোলোআনা ব্যবসাদারে পরিণত হয়ে কোচিং ব্যবসা যেভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন এটা যে কোনো দেশের পক্ষেই এক কলঙ্কজনক ব্যাপার। বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন থেকে এই কলঙ্কজনক ব্যাপারই পরিণত হয়েছে স্বাভাবিক ব্যাপারে! পাঁচ-দশ হাজার টাকা মাসিক বেতন নেওয়া স্কুলগুলোতে উঁচু বেতন নেওয়া শিক্ষকরা ঠিকমতো নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন কি-না তা তাদের দেখার কেউ নেই! শুধু স্কুল কর্তৃপক্ষই নয়, সরকারি কর্তৃপক্ষও বিষয়টি সম্পর্কে ভালোমতো অবহিত থাকলেও তারা কিছুই করে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এর মূল কারণ, ১৯৭২ সাল থেকেই বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের হঠাৎ উত্থান ঘটে। তারা এ দেশে সবরকম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে অবশেষে শাসকের পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের শাসন এখন বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত। মানুষ যা কিছু কারবার করে, রাজনীতি, সংস্কৃতি থেকে নিয়ে শিক্ষা পর্যন্ত সবকিছুই গড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যবসাতেই পরিণত হয়। ব্যবসার মধ্যেই সবকিছু লয়প্রাপ্ত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে এবং বিশেষত স্কুল পর্যায়ে এখন যা ঘটছে তার মধ্যেও এটাই দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা এখন ব্যবসায় পরিণত হওয়ায় শিক্ষার মান শোচনীয়ভাবে কমে আসায় অনেক জৌলুস সত্ত্বেও সংস্কৃতি এখন ব্যবসার অধীন হয়েছে এবং সাধারণভাবে নৈতিকতার মান ভয়ঙ্করভাবে নিচে নেমেছে। চতুর্দিকে দুর্নীতির জয়জয়কারের মধ্যে এর প্রমাণ দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষকদের ব্যবসাদারে পরিণত হওয়া এই দুর্নীতিরই এক প্রামাণ্য দৃষ্টান্ত।&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-6955405398037429344?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/6955405398037429344/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/6955405398037429344'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/6955405398037429344'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-9041063166422375042</id><published>2009-10-22T21:29:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T21:30:00.200-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='শ্রমিক'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দ্রব্যমূল্য'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='মজুরি'/><title type='text'>স্বল্প বেতন-মজুরি, দ্রব্যমূল্য এবং দুর্নীতি</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বাংলাদেশে শ্রমিক থেকে নিয়ে সরকারি কর্মচারী পর্যন্ত সব ধরনের কর্মরত মানুষের মজুরি ও বেতন বিশ্বের যেকোন দেশে তুলনীয় কাজে নিযুক্ত মানুষের মজুরি ও বেতন থেকে অনেক কম। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মজুরি, এমনকি বেতন কাঠামোর দিকে তাকালেও দেখা যাবে অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার। সেখানে তুলনায় শ্রমিকের মজুরি বেশি এবং সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মানুষের বেতন বাংলাদেশের তুলনায় তিন-চার থেকে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি। কিন্তু প্রকৃত আয়ের তারতম্য ও জনজীবনের অবস্থা শুধু এটা দিয়েও বোঝা যাবে না। এই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের এবং অন্যান্য জিনিসের মূল্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে, বাংলাদেশের তুলনায় জিনিসপত্রের মূল্য ভারতে অনেক কম। কাজেই এ দিক থেকে বিচার করলে দেখা যাবে, ভারতীয় রুপির ক্রয়ক্ষমতা বাংলাদেশী টাকার থেকে বেশি। একদিকে বেতন-মজুরি কম এবং অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বেশি থাকায় বাংলাদেশের জনজীবন এখন শুধু বিপর্যস্ত নয়, বলা চলে বিধ্বস্ত। শ্রমিকদের ক্ষেত্রে একথা বিশেষভাবে প্রযোজ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৬-১৭শ� টাকা শ্রমিক মজুরি পাওয়া গার্মেন্টস শ্রমিকদের কথা ভাবলে মাথা খারাপ হওয়ার উপক্রম হয়। যেসব সরকারি কর্মচারী ১৩-১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতন পান তাদের সমতুল্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভারতে ৫৬ হাজার টাকার ওপর। এই বেতন পেয়ে তাদের পক্ষে মাসে ১০ দিন সংসার চালানোই মুশকিল বলে তারা জানান (আমার দেশ ১৮�৮�২০০৯)। এদের অধিকাংশই মাসের বাকি দিনগুলোর খরচ দুর্নীতির মাধ্যমেই সংগ্রহ করেন অথবা সেটা করতে বাধ্য হন। কিন্তু শ্রমিক এবং অন্য গরিবদের জন্য সে পথও খোলা নেই। তার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু এই সরকারি কর্মচারীরা ও তাদের থেকে উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কথা উঠলে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ান। সব স্তরের সরকারি কর্মচারীরই এই একই অবস্থা। তাদের অবস্থার সঙ্গে জাতীয় সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে নিয়ে শাসক শ্রেণীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতানেত্রীদের অবস্থার পার্থক্য নেই। ভারতে শ্রমিকদের মজুরি এখানকার তুলনায় বেশি হলেও সেখানে তাদের মজুরির সঙ্গে অন্যদের বেতনের দুস্তর পার্থক্য। তাদের জীবনও সেখানে সুখের নয়। কিন্তু ভারতীয়, মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয় ইত্যাদি দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের আস্থা যে কি পরিমাণ দুর্বিষহ সেটা তাদের মজুরির হারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। কিভাবে এই মজুরি নিয়ে তারা সপরিবারে স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি নিয়ে জীবনধারণ করেন এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এ বিষয়ের কিছুটা ধারণা করা যেতে পারে যদি এই শ্রমিকদের ও তাদের পরিবারের লোকদের শারীরিক অপুষ্টির খবর নেয়া হয়। অপুষ্টিতে তাদের প্রত্যেকেরই শরীর বিধ্বস্ত, নানা ধরনের অসুখ-বিসুখে তারা জর্জরিত।&lt;br /&gt;বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকরা অন্যান্য দেশে কাজের জন্য নিজেদের সামান্য জমিজমা পর্যন্ত বিক্রি করে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এ কারণে যে, অন্য দেশে বাংলাদেশের থেকে মজুরি বেশি, যদিও সেসব দেশের সরকার ও পুঁজি মালিকরা এখন এ বিষয়টি লক্ষ্য করে বিদেশী শ্রমিকদের মজুরি আগের তুলনায় অনেক কমিয়ে দিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অবাধ ও বেপরোয়া মূল্যবৃদ্ধি বড় মাপের ধনী ছাড়া অন্য সবার জীবনেই সমস্যা সৃষ্টি করে, কিন্তু এ সমস্যা নিম্ন আয়ের লোকদের, বিশেষত শ্রমিকদের জীবনে এক স্থায়ী বিপর্যয় ও সংকট তৈরি করে রাখে। ঠিক এ মুহূর্তে চাল ও আটার দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও অন্য প্রত্যেকটি জিনিসের দাম যেভাবে লাফ দিয়ে উপরে উঠছে তাতে নিম্নতম আয়ের লোকদের জীবন এমনভাবে বিপন্ন হবে যাতে তাদের পক্ষে জীবনধারণ করাও আর সম্ভব হবে না। সাধারণভাবে দুর্ভিক্ষ বলতে যা বোঝায় সেটা না হলেও চরম খাদ্যাভাব এবং অপুষ্টিতে শ্রমিকদের কার্যক্ষমতা বলে বিশেষ কিছু থাকবে না। অথচ কোন উৎপাদন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের শ্রমশক্তি প্রদানের মতো ক্ষমতা না থাকলে সেখানে উৎপাদন সুষ্ঠু ও সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব নয়। এদেশে পুঁজি মালিক ও শিল্প উদ্যোক্তারা মূলত লুণ্ঠনজীবী চরিত্রসম্পন্ন হওয়ার কারণে এ দিকে খেয়াল রাখার মতো অবস্থা তাদের নেই। তারা শ্রমিকদের শ্রমশক্তি সর্বনিম্ন মূল্যে কিভাবে নিঙড়ে নিয়ে নিজেদের পকেট ভর্তি করবে এটাই তাদের একমাত্র বিবেচনা। কাজেই শ্রমিকদের মনুষ্যচিত মজুরি দেয়া তো দূরের কথা, নিজেদের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে উপযুক্ত ও সর্বোচ্চভাবে ব্যবহারের কোন সংস্কৃতিও তাদের নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ লুণ্ঠনজীবীরা যেমন শিল্পক্ষেত্রে আছে, তেমনি আছে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে। তারাই এখন প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সিন্ডিকেট তৈরি করে বেপরোয়াভাবে মূল্য বৃদ্ধি করছে। এখানে এটা অবশ্যই বলা দরকার, এসব তাদের দ্বারা সম্ভব হচ্ছে সরকারি কর্মচারী বিশেষ করে সরকারি দলের সাংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতানেত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সক্রিয় সহায়তায়। বলা বাহুল্য, এ লুণ্ঠনজীবী ব্যবসায়ীদের মুনাফার একটা অংশ এদের পকেটে পড়ছে। এদের সহযোগিতা ছাড়া বেআইনি সিন্ডিকেটগুলো নিজেদের তৎপরতা বজায় রাখছে এটা মনে করার থেকে বড় মূর্খতা আর কি আছে?&lt;br /&gt;এদিক থেকে জনগণের চিন্তা অন্যদিকে সরিয়ে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে অন্যান্য মন্ত্রী ও সরকার দলীয় লোকদের নানা প্রকার ঘোষণা, নীতিবাক্য, তথাকথিত নির্দেশনা ইত্যাদির অভাব নেই। কিন্তু এসবই যে একেবারে ভুয়া ব্যাপার এটা প্রতিদিনের ঘটনাবলীর মধ্যেই প্রমাণিত হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে যে দুটি সমস্যা গুরুতরভাবে দেখা দিয়েছে এবং অনেকদিন থেকেই চলে আসছে তা হল, দুর্নীতি এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি। এ দুই ক্ষেত্রেই জন্ম নিচ্ছে অন্য হাজারো রকম সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যা। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে তাদের সব থেকে বড় �কৃতিত্ব� নতুন মুখের আমদানি। শারীরিকভাবে এসব মুখ নতুন হলেও এদের চরিত্রগত পার্থক্য জনগণ কোথাও দেখছেন না। পুরনো দুর্নীতিবাজদের মতোই এরাও বেপরোয়া। নতুন হওয়ার কারণে দুর্নীতি রপ্ত করতে তাদের কারও কারও সময় লাগলেও এখন তারা বেশ ভালোভাবেই মাঠে নেমেছে। তারা ইতিমধ্যে সর্বত্র নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য যেভাবে আইনগত সবরকম শৃংখলা ভঙ্গ করে দাপট দেখাচ্ছে ও সেই সঙ্গে দুর্নীতির বেলায়ও দেখাচ্ছে এতে জনগণ এখন তাদের �দিন বদলের� কর্মসূচির মমার্থ বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করছেন। এই �দিন বদল� যে জনগণের পরিবর্তে তাদের নিজেদের হচ্ছে, এ বিষয়ে জনগণের ব্যাপক অংশের কোন সন্দেহ নেই। অন্য কথা বাদ দিয়েও শেখ মুজিবের মৃত্যুদিবস উদযাপনের জন্য তারা যেভাবে দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত থেকে চাঁদা তুলে জৌলুস ও জিয়াফতের ব্যবস্থা করেছে তার মধ্যেও এই দুর্নীতি ছাড়া আর কিছু ছিল না। সংবাদপত্র রিপোর্ট অনুযায়ী নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদকের নেতৃত্বে ১৬৮টি বড় সাইজের গরু জবাই করে লক্ষাধিক লোককে খাওয়ানোর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এ জিয়াফতের খরচ যে ব্যাপক চাঁদাবাজির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। চাঁদাবাজির মাধ্যমে এ ধরনের জিয়াফত খাওয়ানোর ঘটনা ঢাকা শহরসহ দেশের সর্বত্র ঘটেছে। এ চাঁদার একটা অংশ চাঁদাবাজদের পকেটেও পড়েছে। যারা এ কাজ দেশজুড়ে করেছে তারা মনে করে এ জিয়াফতের ব্যয় বহন করা বাংলাদেশের জনগণের এক পবিত্র কর্তব্য। তারা এ কর্তব্য সম্পাদনে জনগণকে সাহায্য করছে মাত্র!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একজন জেলা সম্পাদক পর্যায়ের লোক পত্রিকায় জানান দিয়ে শেখ মুজিবের মৃত্যুদিবসে শোক পালনের অছিলায় যদি এভাবে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি করে থাকে ও করতে পারে তাহলে উচ্চতম পর্যায়ের লোকরা কি করছে এটা বোঝার অসুবিধা নেই। শস্য ক্ষেতে টিড্ডি পোকা পড়ে যেভাবে ক্ষেতকে শস্যশূন্য করে এভাবেই এরা দেশের যাবতীয় সম্পদের ওপর পড়ে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এ লুটপাটের সঙ্গে সম্পর্কিত থেকেই খাদ্যদ্রব্যের সিন্ডিকেটওয়ালারা নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং সবরকম ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে বাজারে সন্ত্রাস ও জনগণের জীবনে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে।&lt;br /&gt;(সুত্র, যুগান্তর, ২৩/০৮/২০০৯) &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-9041063166422375042?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/9041063166422375042/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_384.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/9041063166422375042'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/9041063166422375042'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_384.html' title='স্বল্প বেতন-মজুরি, দ্রব্যমূল্য এবং দুর্নীতি'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-4149313246888758591</id><published>2009-10-22T21:27:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T21:28:52.985-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='পুলিশ'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='চরমপন্থী'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বাঙলাদেশ'/><title type='text'>পুলিশ কথিত চরমপন্থী কারা?</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;�চরমপন্থীদের� নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ও র�্যাব এখন খুব ব্যস্ত। প্রায় প্রত্যেক দিনই এখন সংবাদপত্রে তাদের এই ব্যস্ততা ও তৎপরতার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। ২৮ আগস্ট দৈনিক সমকাল পত্রিকায় �চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান� নামে এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। গত কিছুদিন থেকে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র�্যাবের নানা কীর্তিকাহিনী ও বক্তব্য প্রকাশ হতে থাকা এবং এখনও অব্যাহত থাকার কারণে উপরোক্ত সংবাদপত্র রিপোর্টটির কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করলে এ বিষয়ে ধারণা পরিষ্কার হবে। তার আগে বলা দরকার, চরমপন্থী বলতে পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও তাদের সরকার এমন এক ধরনের বামপন্থীদের বোঝান যারা নানা প্রকার কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে প্রধানত গ্রামাঞ্চলে সশস্ত্র সংগ্রামের কথা বলেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কিছু অস্ত্রের ব্যবহার করেন। এছাড়া এই দলগুলোর নাম নিয়ে এমন অনেক সন্ত্রাসী ক্রিমিনাল গ্রুপও কাজ করে যার সঙ্গে কমিউনিস্টদের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু তারা নিজেদের নিছক ক্রিমিনাল চরিত্র ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে কমিউনিস্ট হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে গ্রামাঞ্চলে খুন-খারাবি করে। এরা প্রত্যেকেই সরকারের ও সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত থেকেই এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে নিযুক্ত থাকে। এ কারণে পুলিশ এদের অনেকের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, রাহাজানি ইত্যাদির মামলা দিয়ে রাখে। অরাজনৈতিক এই ক্রিমিনালদের সঙ্গে কমিউনিস্ট নামধারী একাধিক গ্রুপের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও পুলিশ এ ধরনের মামলা দায়ের করে, যাতে পরবর্তীকালে তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযানে কেউ নিহত হলে তারা বলতে পারে যে, কারা চিহ্নিত অপরাধী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রিপোর্টটির প্রথমেই বলা হয়, �দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থী দমনে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। চরমপন্থীদের আস্তানা ধ্বংস করতে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে প্রয়োজন হলে সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর জন্য অপরাধীদের কেউ আহত বা নিহত হলে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে দায় বহন করতে হবে না। একই সঙ্গে অভিযান জোরদার করতে পুলিশের পাশাপাশি র�্যাবেরও শক্তি বাড়ানো হয়েছে।�&lt;br /&gt;এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, পুলিশ ও র�্যাবকে অবাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে �সম্মুখযুদ্ধে� অংশ নিয়ে অবাধে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যেতে। এই নতুন সরকারি নির্দেশের অনেক আগে থেকেই র�্যাব ও পুলিশ অবাধে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে নিয়মিতভাবে খুন-খারাবি করে এসেছে। কাজেই এই নতুন সরকারি নির্দেশ তাদের জন্য কোন নতুন ব্যাপার নয়। ক্রসফায়ারের নামে এই হত্যাকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মহল, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং জনগণের বিভিন্ন অংশের দ্বারা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে মিটিং মিছিলও হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সম্প্রতি অর্থাৎ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শহর ও গ্রামাঞ্চলে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির দারুণ অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা নানা ধরনের অপরাধ করছে যার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা অনেক। এ বিষয়টির এক ধরনের স্বীকৃতি দেখা যাচ্ছে পত্রিকাটির রিপোর্টের নিম্নলিখিত অংশে। এতে বলা হচ্ছে, �খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ অঞ্চলে চরমপন্থীদের তৎপরতা প্রায় বন্ধ ছিল। এসব সংগঠনের নেতারা ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যায়। নির্বাচনের পর থেকে তারা এ এলাকায় ফিরতে শুরু করে। অনেকেই ফিরে এসেছে, তবে প্রকাশ্যে বের হচ্ছে না। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই এলাকায় অনেকটাই নিষ্ত্র্নিয় হয়ে যায় র�্যাব। বন্ধ হয়ে যায় ক্রসফায়ার। ফলে আধিপত্য বিস্তার করতে চরমপন্থী সংগঠনগুলোর নেতারা নতুন করে মাঠে নামে। এর সঙ্গে যোগ হয় ঠিকাদারি কাজ, নারী-শিশু পাচারসহ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো নানা কাজ। শুরু হয় নৃশংস খুন পাল্টা খুন। এলাকার আধিপত্য বিস্তারের জন্য অনেক রাজনৈতিক নেতা আশ্রয় দিতে শুরু করেন চরমপন্থীদের। সম্প্রতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।�&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের এই পরিস্থিতি বিষয়ে রিপোর্টটিতে বলা হয়, ২০০৪ সালে র�্যাব গঠনের পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় চরমপন্থীবিরোধী অভিযান শুরু হয়। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় থেকে গত ১৯ আগস্ট পর্যন্ত এ অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে ৪৫৫ জন ক্রসফায়ারে মারা গেছে। পুলিশ, র�্যাব ও নৌবাহিনীর সদস্যরা এসব অভিযানে অংশ নেন। কিন্তু সে সময় ব্যাপক আকারে শুরু হওয়া এই ক্রসফায়ারে কিছু নিরীহ লোকও মারা যান। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠে। ওই সময় বর্তমান সরকারি দল, আওয়ামী লীগও ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই রিপোর্ট থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, �সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে� বেপরোয়াভাবে প্রতিপক্ষ হত্যার যে নির্দেশ বর্তমান সরকার কর্তৃক দেয়া হয়েছে তার আগেই এই নির্দেশ ছাড়াই র�্যাব গ্রামাঞ্চলে ক্রসফায়ারের নামে ৪৫৫ জনকে হত্যা করেছে। যার মধ্যে কিছু নিরীহ লোকও ছিল। এখন সরকার কর্তৃক খোলাখুলিভাবে পুলিশ ও র�্যাবকে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতিসহ অবাধ হত্যার অনুমতি প্রদানের পর অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা অনুমান করা কঠিন নয়। বোঝা যাচ্ছে, এর পর থেকে একদিকে নানা ধরনের সন্ত্রাসী ক্রিমিনাল এবং সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ সংস্থাগুলোর দ্বারা গ্রামাঞ্চলে এমন এক সন্ত্রাসের ও খুন-খারাবির রাজত্ব কায়েম হবে যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই। এ পরিস্থিতি সামনে রেখেই এখন সরকার এবং তাদের পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চরমপন্থী দমনের নামে প্রচার কাজ ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে।&lt;br /&gt;আসলে শহরাঞ্চলে তো বটেই, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, সন্ত্রাসী ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় পুলিশ ও র�্যাব এবং সেই সঙ্গে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা অনেক দিন থেকে সন্ত্রাস দমনের নামে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারে নিয়মিতভাবে হত্যা করে আসছে। এই রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মোফাখখার চৌধুরী ও ডাক্তার মিজানুর রহমান টুটুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাদের ঢাকা থেকে অপহরণ করে উত্তর বাংলায় নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয় এবং এর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মহলে বড় রকম প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়। সংবাদপত্রে লেখালেখিও হয়। এখন সাধারণ সন্ত্রাসী ক্রিমিনালদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবাধে হত্যার জন্য সরকার ও তাদের পুলিশ ও র�্যাব কর্তৃক নতুন �কর্মসূচি� গ্রহণ করার ব্যবস্থা হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পত্রপত্রিকা ও বৈদ্যুতিক মাধ্যমে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক, গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে প্রাপ্ত আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি বামপন্থী ও বিভিন্ন কমিউনিস্ট গ্রুপের দ্বারাই সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু অপরাধের রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, যারা এসব সন্ত্রাসী কাজ করছে তারা সাধারণ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং অরাজনৈতিক লোকজন। রিপোর্টটির নিম্নলিখিত অংশ এজন্য আবার উদ্ধৃত করতে হচ্ছে যাতে বলা হয়েছে, �আধিপত্য বিস্তার করতে চরমপন্থী সংগঠনগুলোর নেতারা নতুন করে মাঠে নামে। এর সঙ্গে যোগ হয় ঠিকাদারি কাজ, নারী-শিশু পাচারসহ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো নানা কাজ। শুরু হয় নৃশংস খুন, পাল্টা খুন। এলাকার আধিপত্য বিস্তারের জন্য অনেক রাজনৈতিক নেতা আশ্রয় দিতে শুরু করেন চারমপন্থীদের।�&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখানে চরমপন্থী সংগঠনগুলোর নেতা এবং ঠিকাদারি কাজ, নারী-শিশু পাচারকারীদের যেভাবে এক করে দেখানো হয়েছে তার থেকেই বোঝা যায় পুলিশ কথিত এই �চরমপন্থীদের� আসল পরিচয় কি। এই তথাকথিত চরমপন্থীরা যে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের লোক নয়, এটা কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না। কারণ কোন প্রকৃত বামপন্থী ও কমিউনিস্ট সংগঠনের সঙ্গে ঠিকাদারি ও নারী-শিশু পাচারের সম্পর্ক থাকতে পারে এটা মতলববাজ ছাড়া আর কেউই করতে পারে না। আসলে পুলিশ নিজেরাই বামপন্থী ও কমিউনিস্ট নামধারী কোন কোন সংগঠন নিজেরাই খাড়া করে রাজনৈতিকভাবে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা যে করে থাকে এটা আগে দেখা গেছে। এছাড়া নানা ধরনের দুবৃ�ত্তদের আসল চরিত্র আড়াল করার জন্য এবং প্রগতিশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচারের জন্য তারা সন্ত্রাসী ক্রিমিনালদের বামপন্থী, কমিউনিস্ট চরমপন্থী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে কমিউনিস্টদের হেয় করার চেষ্টা করে যা এক ঘৃণ্য চক্রান্ত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপরোক্ত পত্রিকা রিপোর্ট থেকে এবং অন্য অসংখ্য রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের আমলে যেসব সন্ত্রাসী ও ক্রিমিনালরা বেপরোয়াভাবে দুর্নীতি, খুন, রাহাজানি ইত্যাদি করত তারা আবার সক্রিয় হয়েছে, অনেকে সাত বছর দেশের বাইরে পলাতক থাকলেও তারা আবার ফিরে এসেছে। শুধু তাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে যেসব ক্রিমিনাল মামলা ছিল সেগুলো উঠিয়ে নিয়ে তাদের আবার মাঠে নেমে �স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি�, �মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক� ইত্যাদি হিসেবে কর্তব্য পালনের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। তাদের এই কর্তব্য পালনের কারণেই সারাদেশে এখন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং এই ক্রিমিনালদের আসল চরিত্র আড়াল করার জন্যই তাদের চরমপন্থী আখ্যা দিয়ে চারদিকে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতপক্ষে সারাদেশে সরকারি দলের লোকজন এখন ঠিকাদারি, নারী-শিশু পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের রাজত্ব কায়েম করেছে। এদের অত্যাচার ও ক্রিমিনাল তৎপরতা গত সাত-আট মাসের আওয়ামী লীগ শাসন আমলে এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যা এক আশংকাজনক ব্যাপার। এই পরিস্থিতি পুলিশের জন্য বিশেষভাবে বেসামাল হয়েছে এ কারণে যে, এসব ক্রিমিনাল তৎপরতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। হয় তারা নিজেরাই সরাসরি এসব কাজ করছে অথবা এক্ষেত্রে তারা পালন করছে তথাকথিত গডফাদারের ভূমিকা। মোটকথা, আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের থেকে মধ্যম ও নিম্নপর্যায়ের নেতারা আজ দেশজুড়ে যে দুর্নীতি ও বিশৃংখলার সৃষ্টি করছে তার ফলেই আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির বড় রকম অবনতি তারা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই ঘটে চলেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ কারণে �ক্রসফায়ারে�র অর্থ যেমন ফায়ার বা সারাসরি হত্যাকাণ্ড তেমনি চরমপন্থীদের অর্থ হল, সাধারণ ক্রিমিনাল থেকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সেসব নেতাকর্মী, যারা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত থেকে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটাচ্ছে এবং পরিস্থিতিকে আরও বড় রকম সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই প্রকৃত অবস্থা আড়াল করার জন্যই সরকারের নির্দেশে পুলিশ কর্তৃপক্ষ সব ধরনের দুবৃত্ত এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী ক্রিমিনালদের চরমপন্থী বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টায় এখন নিয়োজিত আছে। (সুত্র, যুগান্তর, ৩০/০৮/২০০৯)&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-4149313246888758591?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/4149313246888758591/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_2982.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/4149313246888758591'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/4149313246888758591'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_2982.html' title='পুলিশ কথিত চরমপন্থী কারা?'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-2365407848842717688</id><published>2009-10-22T21:26:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T21:27:22.172-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='দুর্নীতি'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='আমলাতন্ত্র'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বাংলাদেশ'/><title type='text'>কী হচ্ছে আজ এই দেশে?</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আজকের লেখায় সংবাদপত্র রিপোর্ট থেকে বেশকিছু উদ্ধৃতি দেওয়া দরকার আলোচ্য বিষয়ের গুরুত্ব সামনে আনার জন্য। এই আলোচনার একটি অংশ হচ্ছে পুরো প্রশাসনের মধ্যে প্রকৃত দিকনির্দেশনার অভাব, শৃঙ্খলার অভাব, দিগ্গি্বদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে সরকারি ওপরতলার নেতা-নেত্রীদের নানা ধরনের প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি, এগুলোর কোনো কার্যকারিতা না থাকা, সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, অন্য দলের প্রতি আনুগত্য থাকা অথবা সেটা থাকার সন্দেহে কিছুসংখ্যক আমলার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা, অনভিজ্ঞ ও দায়িত্বহীন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দলীয় আমলানির্ভরতা এবং সর্বোপরি ওপর থেকে নিম্নপর্যায়ে কোথাও 'দিনবদলের' কোনো কর্মসূচির চিহ্নমাত্র না থাকা। এর দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে খুব দায়িত্বশীল আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্তৃপক্ষ থেকে নিয়ে দলটির ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের চরম ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি, দুর্নীতিবাজি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ভূমিকা।&lt;br /&gt;আজ ৩১ আগস্ট ২০০৯-এর দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রধান রিপোর্ট হিসেবে যা প্রকাশিত হয়েছে তার থেকেই প্রথমে উদ্ধৃতি দেওয়া দরকার। এতে বলা হয়েছে, 'সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পাঁচটি বিশেষ নির্দেশনার পরও প্রশাসনে গতিশীলতা ফিরে আসেনি। সেই নিয়মের নিগড়ে বাঁধা, সেই ঢিলেঢালা ভাব। শুধু চাকরি রক্ষার দায়। মাঠপ্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত গোটা প্রশাসনে কম-বেশি একই হাল। ফলে এক রকম থমকে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধিকাংশ কাজের অগ্রগতি। দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আগামী ৫২ মাসে মহাজোট সরকারের দিনবদলের সনদ ও ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন সহজসাধ্য নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেশ ক'জন সাবেক আমলাসহ সংশ্লিষ্টরা।' এ পরিস্থিতি 'দ্রুত' পরিবর্তন তো দূরের কথা, কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা যে প্রায় শূন্য এটা বর্তমান সরকার ও সরকারি দলের সব কর্মকাণ্ডের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমলাতন্ত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'জোট সরকারের ঘনিষ্ঠতার অজুহাতে বিপুলসংখ্যক আমলাকে আস্থায় নিতে না পারা, ঘন ঘন বদলি, ওএসডি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আতঙ্ক, মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পরিবর্তে অতিমাত্রায় আমলানির্ভরতা, শীর্ষ পর্যায়ের অনেক আমলার অদক্ষতা, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকের মধ্যে কাজের সমন্বয়হীনতা এবং পুরনো বিধিবিধান অনুসরণ করতে গিয়ে অহেতুক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টিসহ ১৫টি কারণে কাজের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে।'&lt;br /&gt;এছাড়া 'অধিকাংশ সমস্যার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না দেওয়া, শূন্যপদ পূরণে ছাড় পেতে কালক্ষেপণ, মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের তদবির এবং যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আগেই মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর মিডিয়ার কাছে সংসদীয় কমিটিগুলোর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক মন্তব্য এবং এসব সমস্যার কারণেই মূলত রুলস অব বিজনেস, সচিবালয় নির্দেশিকা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে সংশ্লিষ্টরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করলেন বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক আমলা।'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তদবিরকারীদের প্রসঙ্গে রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, 'তদবিরবাজদের চাপে মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে গত ৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে সচিবালয়ের পাস ইস্যুর সংখ্যা সীমিত রাখা সংক্রান্ত সরকারের আদেশটি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের নজরে আনে। প্রশাসনকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং উলি্লখিত চারটি চিঠি দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে না আশায় গত ১ জুলাই সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের উদ্দেশে আরও একটি চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব।'&lt;br /&gt;১ জুলাই প্রদত্ত এই শেষোক্ত চিঠির কোনো ফল যে নেই, এটি এখন রিপোর্টটিতে এর উল্লেখ থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে। ফল না হওয়ারই কথা। কারণ পাস ইস্যুর বিষয়টি বিপুল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, দুর্নীতিবাজদের নানা তদবিরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এই দুর্নীতিবাজরা হলো বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রী, তাদের আত্মীয়-বন্ধুবান্ধব ও দলীয় সমর্থক। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পর তাদের দুর্নীতি যে মাত্রা অর্জন করেছে তাতে এর উপদ্রব খর্ব করার শক্তি কারও নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বর্তমান সরকার ও তাদের নেত্রী নিজেদের লোকদের জনগণের টাকায় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্য এবং তাদের দুর্নীতির সুযোগ করার জন্য অনেক রকম নতুন পদের সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার পদ। এই উপদেষ্টাদের মূল কাজ হলো দলীয় নেত্রীর গুণকীর্তন করা এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের ওপর মাতব্বরি করা। এ প্রসঙ্গে রিপোর্টটির একেবারে শেষদিকে বলা হয়েছে, 'সরকারের একজন মন্ত্রী বলেন, শুরু থেকেই উপদেষ্টা ও মন্ত্রীদের মধ্যে একটা দূরত্ব রয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সম্প্রতি দুই বিচারককে চাকরি থেকে অবসর ও পরে পুনর্বহাল করার ঘটনার মধ্যদিয়ে। আরেক মন্ত্রী জানালেন, সংসদীয় কমিটিগুলোর অতিমাত্রায় তদারকিও কাজের গতি মন্থর করে দিচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর সংসদীয় কমিটির নেতিবাচক মন্তব্য সামগ্রিক কাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।' এক্ষেত্রে উপদেষ্টাদের 'অতিমাত্রায় তদারকির' অর্থ অতিমাত্রায় মাতব্বরি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এদের এই মাতব্বরির কারণ দু'একজন মন্ত্রী ছাড়া অন্য মন্ত্রীদের থেকে তারা প্রধানমন্ত্রীর আরও কাছের লোক এবং চাটুকারিতার জোরেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের নৈকট্য। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক দিক থেকে সম্পূর্ণ নিষ্প্রয়োজনীয় উপদেষ্টাদের কাজ যে দাঁড়াবে মাতব্বরি এবং এই মাতব্বরির কারণে যে প্রশাসনে জটিলতা সৃষ্টি হবে, এটি বলাই বাহুল্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রশাসনে কী ধরনের বিশৃঙ্খলা, দিকহীনতা এবং সতীত্বপনার সৃষ্টি হয়েছে তার এক অতি হাস্যকর দৃষ্টান্ত হলো, কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইসলামী ঐক্যজোট নেতা ফজলুল হক আমিনীকে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিজের স্বাক্ষরে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইফতারের আমন্ত্রণ পাঠিয়ে তারপর দ্বিতীয়বার লোক পাঠিয়ে সে আমন্ত্রণপত্র ফেরত আনা! এ ধরনের অবিশ্বাস্য কাণ্ড বোধহয় বাংলাদেশ ছাড়া ভূভারতে অন্য কোনো দেশে সম্ভব নয়। আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর পর হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতির বোধোদয় হলো, আমিনীর মতো একজন ইসলামী নেতাকে ইফতারে দাওয়াত করে 'স্বাধীনতার সপক্ষশক্তি' এবং 'মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক' হিসেবে তিনি বিপদে পড়তে পারেন! কাজেই এরপর তাড়াহুড়ো করে লোক পাঠিয়ে আমন্ত্রণপত্র ফেরত এনে একটি দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার প্রশংসা কোনো সুস্থ লোকের পক্ষে সম্ভব নয়। যে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগিতায় সরকার গঠন করেছিল এবং যারা ২০০৬ সালে খেলাফত মজলিসের মতো একটি নিকৃষ্ট মৌলবাদী দলের সঙ্গে নির্বাচনী চুক্তি করে ব্লাসফেমি আইন পাস করতে পর্যন্ত সম্মত হয়েছিল তাদের পক্ষে ফজলুল হক আমিনীকে অচ্ছুৎ জ্ঞান করে তার থেকে আমন্ত্রণপত্র ফেরত নিয়ে আসার ব্যাপার যে কতখানি নিম্ন সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক অসাধুতার পরিচায়ক_ এটি চিন্তা করলে এ দেশ কী ধরনের শাসকশ্রেণী ও কী রকম রাজনৈতিক দলের দ্বারা শাসিত হচ্ছে, এ নিয়ে জনগণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি খুব স্বাভাবিক।&lt;br /&gt;এক কথায় বলা চলে, বর্তমানে দেশ যাদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে তারা একটি আধুনিক সভ্য সমাজে সরকার পরিচালনার যোগ্যতা যেমন রাখে না, তেমনি তাদের কোনো ধরনের নৈতিকতারও বালাই নেই। অথচ লম্বা-চওড়া কথা বলা এবং নৈতিক বক্তৃতা করা, দেশপ্রেমের বুলি আওড়ানো হলো এদের ওপর থেকে নিচে পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতাদের এক নিয়মিত কাজ। পত্র-পত্রিকায় এর প্রচার হয় এবং এদের ধারণা, এই প্রচারণার ফলে দেশের জনগণের মধ্যে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়ে রাজনীতির আকাশে তারা তারকার মতো জ্বলজ্বল করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজকের ডেইলি স্টার পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় খুব বড় আকারে রাজশাহীর মেয়রের এক অপকীর্তির রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। উপরোক্ত মেয়র তার কন্যার এসএসসি পরীক্ষার ফল আশানুরূপ ভালো না হওয়ায় রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান দীপকেন্দ্রনাথ দাসকে সেটা পরিবর্তন করে তাকে জিপিএ-৫ দেওয়ার জন্য বলেন। দ্বিতীয়বার খাতা পরীক্ষা করেও চেয়ারম্যানের পক্ষে সেটা করা সম্ভব না হওয়ায় মেয়র তার বিরুদ্ধে এমন হুমকি প্রদান করেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের তার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করে তোলেন যে, প্রাণভয়ে তিনি রাজশাহী ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পুলিশে ডায়েরি করে তিনি বলেন, রাজশাহীর মেয়র তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়ায় তিনি তার কাজের জায়গা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেশজুড়ে কী ধরনের দুর্নীতি এখন জারি হয়েছে এর থেকে তার প্রমাণ খুব ভালোভাবেই পাওয়া যায়। কিন্তু এটিই এ ধরনের দুর্নীতির একমাত্র দৃষ্টান্ত নয়। এটি হলো এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের দুর্নীতির সাম্প্রতিকতম একটি দৃষ্টান্ত মাত্র।&lt;br /&gt;আজকের ডেইলি স্টারে একই পৃষ্ঠায় আছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিটের ৪ নেতার চাঁদাবাজি ও নিউমার্কেট এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস সৃষ্টির ওপর রিপোর্ট। ছাত্রলীগ যে আজ আর কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ভূমিকা পালন না করে নিছক চাঁদাবাজ চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে এবং এরা যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণেরও বাইরে চলে গেছে_ এ বিষয়টি এখন সবারই জানা। কিন্তু তবু এরা আওয়ামী লীগেরই অঙ্গসংগঠন এবং আওয়ামী লীগ নিজের রাজনৈতিক শক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য এদের ওপর বড় আকারে নির্ভরশীল। কাজেই এদিক দিয়ে ছাত্রলীগের এসব দুর্নীতি এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দায়দায়িত্ব যে আওয়ামী লীগ দল ও তাদের সরকারের, এ বিষয়ে কারও সন্দেহ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বর্তমানে পূর্ববর্তী চারদলীয় জোটের উপদ্রব, দুই বছরের বেনামি সামরিক শাসনের ফ্যাসিস্ট শাসন পার হয়ে দেশ আওয়ামী লীগের সামনে কী ধরনের সংকটজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে_ এসব হলো তারই পরিচায়ক। এ নিয়ে এখন ভূরিভূরি কথা লেখা হতে পারে। কিন্তু এসব থেকে যে মূল জিজ্ঞাসা জনগণের সামনে তা হলো, 'কী হচ্ছে আজ এই দেশে?' এবং এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(সুত্র, সমকাল, ০১/০৯/২০০৯) &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-2365407848842717688?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/2365407848842717688/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_9689.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/2365407848842717688'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/2365407848842717688'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_9689.html' title='কী হচ্ছে আজ এই দেশে?'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-7488828543904885031</id><published>2009-10-22T21:25:00.001-07:00</published><updated>2009-10-22T21:25:57.939-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='bangladesh'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='police'/><title type='text'>�স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি� তাহলে দেশ বিক্রির ব্যবস্থাই করছে?</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক সমকাল পত্রিকায় �তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ বন্দর রক্ষা কমিটি�র মিছিলে পুলিশি হামলার ওপর সরকার ও সরকারি দলের নেতানেত্রীদের প্রতিক্রিয়া বিষয়ে কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। উপরোক্ত হামলার ওপর এ রিপোর্টগুলো থেকে কিছু অংশ প্রথমে উদ্ধৃত করা দরকার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রথম পৃষ্ঠায় খুব বড় অক্ষরে �কেন পুলিশের বাড়াবাড়ি?� শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, �গত কয়েকদিন পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিল্পপতি আজাদকে গ্রেফতার, তেল-গ্যাস সম্পদ কমিটির মিছিলে পুলিশি হামলাসহ আরও বেশ কিছু ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বিব্রত। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পুলিশ কেন এত বাড়াবাড়ি করছে। কেন অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে, অতীতের মতো এবার সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে কাজগুলো করছে বা এর পেছনে অন্য কোন পরিকল্পনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।�&lt;br /&gt;এখানকার যে কোন দলীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের একটি অতি প্রিয় শব্দবন্ধ হল, �খতিয়ে দেখা হচ্ছে।� কাজেই এক্ষেত্রে যে তারা পুরো ব্যাপারটি খতিয়ে দেখালে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;�সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই ঘটনা� শীর্ষক প্রথম পৃষ্ঠার অপর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, �তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশি হামলাকে অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, এ ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।� রিপোর্টটিতে আরও বলা হয়েছে, �আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া পেটোয়া বাহিনী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি ঘটানো হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আওয়ামী লীগের এই নেতার বক্তব্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, অন্যরা যেখানে চক্রান্তের উল্লেখ করে বিষয়টি �খতিয়ে� দেখার কথা বলেছেন সেখানে তিনি �খতিয়ে� দেখারও কোন প্রয়োজন বোধ না করে সরাসরি একেবারে সত্য আবিষ্কার করেছেন! এ সত্যটি হল, আওয়ামী লীগ প্রমাণিতভাবে সতীসাধ্বী, সৎ লোক ও সন্ত্রাসীদের একটি �পবিত্র� সংগঠন। এদের আমলে কোন গণবিরোধী, ফ্যাসিস্ট ও দেশের জন্য ক্ষতিকর কাজ হলে তার কোন দায়দায়িত্ব এদের নেই। এরা নিজেরা অপাপবিদ্ধ, নিষ্পাপ। এ কারণে এরা যাতে ক্ষমতায় না থাকতে পারে এজন্য এদের বিরুদ্ধে সদাসর্বদা অন্যরা চক্রান্ত করছে! কাজেই ২ সেপ্টেম্বর তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির মিছিলে যে পুলিশরা হামলা করেছে তারা আসলে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ও তাদের আদেশের অন্তর্বর্তী নয়, তারা তাদের থেকে নির্দেশ পেয়ে এ কাজ করেনি। তারা হলেন, �বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া পেটোয়া বাহিনী�র লোক। অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ যে হামলা করেছে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের কোন সম্পর্ক নেই, তারা যে সমুদ্র তেল ক্ষেত্রের তিনটি ব্লক সাম্রাজ্যবাদী তেল-গ্যাস কোম্পানিকে ইজারা দিয়ে ৮০ ভাগ গ্যাস বিদেশে রফতানি করার ব্যবস্থা করছে তার কোন সম্পর্ক নেই, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ সরকার কর্তৃক দমনের কোন সম্পর্ক নেই। এর সঙ্গে সম্পর্ক হচ্ছে দেশপ্রেমিক দল আওয়ামী লীগের শত্রুদের, যারা তাদের �নিষ্পাপ� চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের জন্য �সরকারবিরোধী� পুলিশকে দিয়ে মিছিলের ওপর হামলার ব্যবস্থা করেছে? শুধু বিবৃতি বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নয়, এটা প্রমাণের জন্য তারা এখন দলে দলে স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে আনু মুহাম্মদকে দেখতে যাচ্ছেন। তার স্বাস্থ্য বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এখানে উল্লেখ করা দরকার, ২ সেপ্টেম্বরের মিছিলে তারা শুধু আনু মুহাম্মদকেই অমানুষিকভাবে লাঠিপেটা করেনি, সেদিন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তারা অন্যদেরও লাঠিপেটা করেছে। তাদের মধ্যে আছেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মুশরেফা মিশু এবং বাসদের কুড়িজনের ওপর নারী পুরুষ কর্মী। তারা অনেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের কোন সরকারি মন্ত্রী ও সরকার দলীয় নেতা দেখতে গেছেন এমন রিপোর্ট কোন সংবাদপত্রে দেখা যায়নি। তাদের রিপোর্ট থেকে মনে হয়, মাত্র একজনই ওইদিনের পুলিশি হামলায় আহত হয়েছেন।&lt;br /&gt;আনু মুহাম্মদ তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির সম্পাদক ছাড়াও একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। কাজেই তাকে হাসপাতালে আহত অবস্থায় দেখতে যাওয়ার মধ্যে কোন দোষ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপরন্তু উচিত কাজ এবং এটা আরও অনেকে করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারি ও দলীয় নেতারা যেভাবে এখন আনু মুহাম্মদের জন্য দরদ দেখাতে হাসপাতালে ভিড় করছেন এটা এক ন্যক্কারজনক ব্যাপার। এর মধ্য দিয়ে তারা এটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, এই ক্রাইমের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু তারা সে চেষ্টা করলেও দেশের লোক এত বোকা নয় যে, তাদের এ কাজের উদ্দেশ্য বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে। তারা এটা স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছেন যে, মিছিলে হামলার পর যে প্রতিক্রিয়া সরকারের বিরুদ্ধে সৃষ্টি হয়েছে সেটা ছোট মাপের নয় এবং কোন উপেক্ষার বিষয়ও নয়। কাজেই সে প্রতিক্রিয়া থেকে রাজনৈতিকভাবে যাতে তাদের বড় রকম ক্ষতি না হয় সেই চেষ্টাতেই তারা নিজেরা �অপাপবিদ্ধ দেবশিশু� হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে এর দায়িত্ব বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলে কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি দলের নেতৃত্বের দিক থেকে এই আচরণ এক অতি কাপুরুষোচিত ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এর থেকে নিন্দনীয় ব্যাপার খুব কমই আছে। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছে, তাদের সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ কাজ করে এবং সেই পুলিশই ওইদিন মিছিলে হামলা করে তিরিশ চল্লিশজন কর্মীকে লাঠিপেটা করে অল্পবিস্তর আহত করেছে। এদের যদি সামান্য নৈতিক বোধ থাকত, এদের চরিত্রের মধ্যে যদি সততার লেশমাত্র থাকত, তাহলে এর দায়িত্ব নিতে এরা কুণ্ঠিত হতো না। কারণ আসলে এ ধরনের নির্যাতন ক্ষমতাসীন সরকারই করে থাকে। তাদের নির্দেশেই পুলিশসহ সব রকম সশস্ত্র বাহিনী কাজ করে থাকে, যা র�্যাব ও পুলিশ এখন নতুন করে আবার �ক্রসফায়ারের� হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে।&lt;br /&gt;এটা কে না জানে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা পুলিশ দিয়ে মিটিং মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতানেত্রীসহ কর্মীদের লাঠিপেটা করে এসেছে। আবার এটাও অজানা নয় যে, আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপির নেতানেত্রীদের মিটিং মিছিলে একইভাবে লাঠিপেটা করেছে। এ দুই প্রধান দল দ্বারা অন্য দলগুলোর ওপর এ দুই দলেরই সরকার সব সময়ে নানা প্রকার জুলুম করে এসেছে এবং এখনও করছে। ব্রিটিশ বা পাকিস্তানি আমলে মিটিং মিছিলের জন্য, মিটিংয়ে মাইক ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতির কোন প্রয়োজন না হলেও এখন যে কোন সরকারের আমলে মিটিং সমাবেশ ইত্যাদির জন্য তাদের অনুমতি নিতে হয়। তাছাড়া মিছিলে বাধা দেয়া এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশের এক নিয়মিত কার্যক্রম। এটা যে সরকারি নীতির বাইরে গিয়ে পুলিশ করছে একথা মনে করার থেকে নির্বোধ চিন্তা আর কি হতে পারে? বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগের ওপর হামলা এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বিএনপির ওপর হামলা থেকেই বোঝা যায় পুলিশ কিভাবে কাজ করে। পুলিশ হল একটি সরকারি দমনপীড়ন যন্ত্র। এই যন্ত্র যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তারাই ব্যবহার করে। এখনও প্রত্যেক ক্ষেত্রে পুলিশ আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশেই কাজ করছে। কাজেই এ বিষয়টি �খতিয়ে� দেখার মতো কোন বিষয় নয়। �খতিয়ে� দেখে এ ব্যাপারে সরকার যে ব্যাখ্যাই দেয়, কেউ তা বিশ্বাস করবে না।&lt;br /&gt;জনগণকে অত বোকা মনে করার কারণ নেই। ক্ষমতার নেশায় যাদের বুদ্ধি লোপ পেয়েছে একমাত্র তারাই নিজেরা এভাবে জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টায় নিযুক্ত থাকতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসল কথা হল, আওয়ামী লীগ সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে পরম বন্ধুত্বের সম্পর্কের কারণে (মার্কিন রাষ্ট্রদূত তো ইতিমধ্যে ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে!) তাদের বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস ব্লক ন্যক্কাজনক শর্তে ইজারা দিয়ে দেশের ও জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু মার্কিনি নয় অন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও আওয়ামী লীগের উপেক্ষার বিষয় নয়। কাজেই ভবিষ্যতে তারাও থাকবে এবং একটি শর্তে ইজারা পাবে। তবে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণাধীন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আওয়ামী লীগ সরকার সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে চক্রান্ত করে আমাদের দেশের তেল গ্যাস সম্পদ তাদের হাতে তুলে দেয়ার যে ব্যবস্থা করছে সেটা যে এদেশের শাসক শ্রেণী ও সরকার নিঃস্বার্থভাবে করতে পারে এটা কেউই বিশ্বাস করে না। এর সঙ্গে দুর্নীতি অবশ্যই সম্পর্কিত। বলা চলে সাম্রাজ্যবাদের খেদমতকারীর সঙ্গে দুর্নীতির ওতপ্রোত সম্পর্ক। দুর্নীতিবাজ না হলে সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে নিঃস্বার্থভাবে একটি দেশের পক্ষে বিপজ্জনকভাবে ক্ষতিকর শর্তে কোন চুক্তি করতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা যেকোন সরকারই দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করুন জনগণ তা প্রতিহত করবেই। কাজেই বঙ্গোপসাগরে তেলগ্যাস ক্ষেত্র তারা যদি মার্কিনসহ অন্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর কাছে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর শর্তে ইজারা দিতে নিযুক্ত হয় তাহলে তা জনগণ অবশ্যই ব্যাপকভাবে প্রতিহত করবে। ২ সেপ্টেম্বরের মিছিলে হামলার যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেশের সর্বত্র হয়েছে সেটা আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে কি ধরনের কাঁপন সৃষ্টি করেছে সেটা তাদের আচরণ থেকে ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধের যেটুকু এখন দেখা যাচ্ছে এটা সামান্য। পরবর্তী পর্যায়ে এই প্রতিরোধ জনগণ আরও ব্যাপক ও শক্তিশালীভাবে করে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। তার জন্য বিএনপি, জামায়াতের চক্রান্ত এবং তাদের �পেটোয়া পুলিশের� সাহায্যের কোন প্রয়োজন হবে না।&lt;br /&gt;(সুত্র, যুগান্তর, ০৬/০৯/২০০৯) &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-7488828543904885031?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/7488828543904885031/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_2469.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7488828543904885031'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7488828543904885031'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_2469.html' title='�স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি� তাহলে দেশ বিক্রির ব্যবস্থাই করছে?'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-7309948711876550683</id><published>2009-10-22T21:22:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T21:23:29.794-07:00</updated><title type='text'>নতুন উদ্যমে র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার হত্যাকাণ্ড</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও পরবর্তী সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকারের আমলে যেভাবে র‌্যাব ও পুলিশের মাধ্যমে ক্রসফায়ারের নামে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসা হচ্ছিল, সেটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করবে। জনগণের ভোট পেলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না এমনসব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং অঙ্গীকারের যে দশা হয়, আওয়ামী লীগের উপরোক্ত অঙ্গীকারেরও তা-ই হয়েছে। কিছু মূঢ়মতি লোক এতে বিস্মিত হলেও রাজনৈতিকভাবে সচেতন লোকদের জন্য এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, এর মধ্যে তাদের আশাভঙ্গেরও কিছু নেই। উপরন্তু তারা এসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং অঙ্গীকারের চরিত্র সঠিকভাবে উপলব্ধির কারণে এর যে পরিণতি বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিলেন সেটাই হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতো বাংলাদেশের শোষক-নির্যাতক-শাসক শ্রেণীর পূর্ববর্তী দলগুলোর ঐতিহ্য অনুসরণ করে অন্য অনেক কিছুর মতো পুলিশ ও র‌্যাবের ক্রসফায়ার হত্যাকাণ্ড আগের মতোই, এমনকি তার থেকেও ব্যাপকভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আওয়ামী লীগের নতুন সরকারের আমলে ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হলে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রসফায়ার বন্ধের অঙ্গীকার সত্ত্বেও এটি তাড়াতাড়ি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কারণ এ দেশে ক্রসফায়ারের ঐতিহ্য খুব শক্তিশালী। এই ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে রাতারাতি ক্রসফায়ার বন্ধ করা সম্ভব নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান ছিল এক ধরনের গায়ে পড়ে কথা বলার মতো ব্যাপার। কারণ এ বিষয়ে বক্তব্য আসা দরকার ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। সেটা এসেও ছিল এরপর। তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছিলেন, ক্রসফায়ার হচ্ছে তবে তা নিষ্প্রয়োজনে হচ্ছে না। অর্থাৎ ক্রসফায়ারের প্রয়োজন আছে! তিনি অবশ্য একথা খুলে বলেননি যে, পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত পরবর্তী সরকার যে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করত, সেই একই প্রয়োজনে তাদের আওয়ামী লীগ সরকারও ক্রসফায়ার চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা দরকার, নির্বাচনের পর 'চমক' সৃষ্টির চেষ্টায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী যেসব নতুন মুখ মন্ত্রিপরিষদে আমদানি করে তাদের 'দিনবদলের' কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন, উপরোক্ত দুই মন্ত্রীই হলেন সেই নতুন মুখদের অন্যতম!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রতিদিনের সংবাদপত্রে এখন পুলিশ ও র‌্যাবের ক্রসফায়ারের রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। ক্রসফায়ার রিপোর্টে যে গল্প বিএনপি জোট সরকার ও সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকারের আমলে পাওয়া যেত, সেই একই বৈচিত্র্যহীন গল্প এখন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিবেশিত হচ্ছে। এ গল্প বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীই এ গল্প বিশ্বাস করেন না। কিন্তু তবু দেশের লোককে গর্দভ জ্ঞান করে সরকারি পুলিশ ও র‌্যাব চরম অবজ্ঞার সঙ্গে এই অভিন্ন গল্প প্রতিটি ক্রসফায়ার ঘটনার পর বলে যাচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রত্যেক ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রেই বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে এবং সেই যুদ্ধে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের নেতা নামে কথিত লোকরাই নিহত হচ্ছে, অন্যরা পালিয়ে যাচ্ছে! যারা এভাবে নিহত হচ্ছে তাদের অনেককেই আগে ঢাকা অথবা অন্য কোথাও গ্রেফতার করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মোফাখখার চৌধুরী ও ডাক্তার মিজানুর রহমান টুকুকেও এভাবে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, র‌্যাব ও পুলিশ যে ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে সেগুলোর বিপুল অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের বামপন্থি, কমিউনিস্ট ইত্যাদি নামে অভিহিত করে থাকেন। সরকারি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এ দলগুলোর উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীদের প্রায় সবাইকেই ইতিমধ্যে একের পর এক সরকারের আমলে খতম করা হয়েছে। এখন যে খেলা চলছে তা হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল সন্ত্রাসী, খুন-জখম করা লোক, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ এবং সরকারের ক্ষমতাশালী 'গডফাদার' নামক ক্রিমিনালদের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজন হত্যা। এদের ক্রসফায়ার করে এখন চক্রান্তমূলকভাবে রাজনৈতিক চরিত্র প্রদান করা হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিছু বিভ্রান্ত বামপন্থি নেতাকর্মী সন্ত্রাসের আশ্রয় নিতে পারেন, কিন্তু তারা সরকারের টাউট ও গডফাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ইত্যাদি করবেন, এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়। আসলে এসব কাজ যারা করছে তারা সরকারি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা প্রকার সন্ত্রাসী ক্রিমিনাল। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে র‌্যাব ও পুলিশ কর্তৃক ক্রসফায়ারের গল্প তৈরি হচ্ছে তাতে হত্যাকাণ্ডের নাম হচ্ছে 'ক্রসফায়ার' এবং এই ক্রিমিনাল সন্ত্রাসীদের নাম হচ্ছে 'চরমপন্থি'। এভাবে এদের চরমপন্থি নামকরণ করে আওয়ামী লীগ দল ও সরকারের লোকজনের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকদের আসল পরিচয় আড়াল করার জন্যই তাদের 'চরমপন্থি' বলে অভিহিত করা হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সম্প্রতি বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের 'চরমপন্থি'দের নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশ বেশ ব্যস্ত আছে। এদের উচ্চতম কর্তৃত্ব এখন এই 'চরমপন্থিদের' নির্মূল করার জন্য প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছেন। এই অভিযানের পরিচিত গল্প তাদের হ্যান্ডআউটে করছেন। সরকারের নির্দেশেই যে এ কাজ হচ্ছে এটি বলাই বাহুল্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এভাবে যে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে এটা বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে হয় বলে জানা নেই। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে কড়া সামরিক শাসন থাকা সত্ত্বেও সেখানে এভাবে এত বেপরোয়াভাবে সরকার হত্যাকাণ্ড করছে না। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে তাই হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে ব্রিটিশ অথবা পাকিস্তানি আমলেও কল্পনা করা যেত না। ৩০ লাখ মানুষের জীবনদান এবং আরও অধিকসংখ্যক লোকের অন্য অনেক ধরনের আত্মত্যাগকে ভাঙিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছেন ও ক্ষমতায় বসে আছেন তারা এ কাজই করছেন। শুধু তা-ই নয়, এভাবে কাজ করে এরা যে 'ঐতিহ্য' সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি এদের শ্রদ্ধার শেষ নেই। কাজেই এই ঐতিহ্য রক্ষা করেই এরা এদের পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতো ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হতে পারে, যারা এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে তাদের অনেকেই প্রকৃত ক্রিমিনাল। কিন্তু ক্রিমিনাল হলেই তাকে আইনের আওতায় না এনে সরাসরি হত্যা করা যে একটি সমাজ ও দেশের জনগণের জন্য কত বিপজ্জনক ব্যাপার, সেটা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না। এখানে আসলে যা ঘটছে তার একটি দিক হলো কিছু ক্রিমিনাল সন্ত্রাসী হত্যার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মীদের ক্রসফায়ারের নামে হত্যা। এদিক দিয়ে দেখলে বাংলাদেশে যেভাবে ও যে করে সরকারি দল কর্তৃক রাষ্ট্রীয় দমন যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটছে এর কোনো তুলনা অন্য দেশে নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লক্ষ্য করার বিষয় যে, এ বিষয়টি নিয়ে কিছু এনজিও মার্কা মানবাধিকার সংস্থা মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করলেও এর রাজনৈতিক দিকটি তাদের বক্তবে উহ্য থাকে এবং তাদের প্রতিবাদের মধ্যে কোনো শক্তি থাকে না। তাছাড়া এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে উপস্থিত করার কোনো উৎসাহও তাদের মধ্যে দেখা যায় না। কাজেই এদিক দিয়ে 'নমঃ নমঃ' করেই তারা নিজেদের 'পবিত্র' কর্তব্য সমাধা করে। প্রকৃতই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, দেশের শীর্ষ আদালত অনেক বিষয়ে ফরমান জারি করলেও এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য তারাও করেন না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, সরকার নির্বাচিত অথবা সামরিক বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত হোক, এ দেশের শাসন-চরিত্র যে ফ্যাসিবাদী এর অনেক প্রমাণের মধ্যে ক্রসফায়ার, পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে আটক থাকা অবস্থায় হার্টফেল করে মৃত্যু, আটক অবস্থায় নারী ধর্ষণ ইত্যাদি হলো তারই অভ্রান্ত প্রমাণ। এর অন্য প্রমাণ হলো জনগণের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কাজের ক্ষেত্রে জবরদস্তিমূলকভাবে বাধা সৃষ্টি। বাংলাদেশে এখন মিটিং-মিছিল ও মাইক ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে, যা ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলে লাগত না। তখন দেশের জনগণ পরাধীন ছিল। সেই পরাধীনতার তুলনায় এখনকার 'স্বাধীনতাকে' কী আখ্যা দেওয়া যাবে? বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই; কিন্তু এ স্বাধীনতা জনগণের জন্য আসেনি। এটি এসেছে জনগণের ওপর শোষণ-নির্যাতনকারী বাঙালি ফ্যাসিস্টদের হাতে। এ ফ্যাসিস্টরা আজ দেশ শাসনের নামে দেশের লোকের ওপর বেপরোয়া শোষণ-নির্যাতন চালাচ্ছে, শ্রমিক-কৃষকসহ অন্য শ্রমজীবীদের রক্ত নিংড়ে উদ্বৃত্ত শোষণ করছে এবং যাদের শক্তির জোরে এরা মোটামুটি নির্বিঘ্নে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রের পুঁজিবাদীদের, তাদের বহুজাতিক করপোরেশনগুলোকে এই উদ্বৃত্তের একটা বড় অংশ ভাগ দিচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৭.৯.২০০৯ &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সূত্র: সমকাল ০৮/০৯/২০০৯&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-7309948711876550683?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/7309948711876550683/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_9704.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7309948711876550683'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7309948711876550683'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_9704.html' title='নতুন উদ্যমে র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার হত্যাকাণ্ড'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-6013939609131886224</id><published>2009-10-22T21:21:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T21:22:13.442-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='current news'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='rab'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='bangladesh'/><title type='text'>ভাঙন এখন চারদিকে</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বাংলাদেশের অবস্থার ওপর কিছু বলতে বা লিখতে গেলে লেখার মতো ভালো কিছু পাওয়া খুবই এক মুশকিলের ব্যাপার। দেশটার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, এতদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় থাকলেও যে কাঠামো এখনও পর্যন্ত কোনমতে খাড়া আছে সেটি অচিরেই বা অদূর ভবিষ্যতেই ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা। ভাঙন এখন চারদিকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই ভাঙনের একটা দৃষ্টান্ত হল, খোদ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশের মধ্যে এমন এক বিশৃংখলা যা শুধু সাধারণ নাগরিকদের জন্যই বিপজ্জনক নয়, দেশের ভৌগোলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক বিরাট হুমকিস্বরূপ। এ বছরের গোড়ার দিকে, ফেব্রুয়ারি মাসে, বিডিআর বিদ্রোহের কথা সবাই জানেন। এই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে অনেক ধরনের দায়িত্বহীন কথাবার্তা ও কার্যকলাপ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দেখা গেছে। পরিস্থিতি এমনই সংকটাপন্ন যে, এখন পর্যন্ত এটা স্থির করাই সম্ভব হয়নি, দেশের কোন্� আইনে বিডিআর বিদ্রোহীদের বিচার হবে। কাজেই বিচার শুরু হয়ে এর নিষ্পত্তি হতে কত সময় লাগতে পারে তার কোন হিসাব বের করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে ঘটনার সময় বহুসংখ্যক সামরিক অফিসার ছাড়াও অনেক বিডিআর সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আটক অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। এ বিষয়ে অনেক দিন ধরে সংবাদপত্রে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়ে এলেও দেশের আইনমন্ত্রী তখন বলছেন, এ বিষয়ে তার সরকারের কাছে কোন রিপোর্ট নেই! এ ধরনের কথাবার্তা ও এ অবস্থা যে একটি দেশের সার্বিক প্রশাসনের ক্ষেত্রে, আইনশৃংখলা, মানবিক অধিকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কত মারাত্মক এটা কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পুলিশ, র‌্যাব অথবা অন্য কারও হেফাজতে মৃত্যু যেকোন দেশের ক্ষেত্রেই বড় রকম মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপার এবং এ ঘটনাকে আইনের অধীনস্থ করে এর বিচার হওয়া দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে যে এ ক্ষেত্রে কি পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেটা আইনমন্ত্রী কর্তৃক এ বিষয়ে কিছুই না জানা বিষয়ক বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। আটক অবস্থায় মৃত্যু বাংলাদেশে নতুন ব্যাপার নয়। ১৯৭২ সাল থেকে এ ধরনের মৃত্যু এখানে এক নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে এবং কোন সময়েই এর কোন প্রতিকার না হওয়ায় এটা এখন বেপরোয়াভাবে ঘটে চলেছে। এ বিষয়টি যে আইনের চোখে ও সরকারি শৃংখলার দৃষ্টিতে এক অতি তুচ্ছ ব্যাপার এটাই আইনমন্ত্রীর �অজ্ঞতা� সম্পর্কিত বক্তব্যের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই যখন অবস্থা তখন ভাবতে অবাক লাগে, বাংলাদেশে আইন মন্ত্রণালয়, আইন বিভাগ, আইনমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, সর্বোচ্চ আদালত ইত্যাদির অধীনে দেশে কিভাবে চলছে, সমাজের মানুষের জীবন কিভাবে কাটছে। সংবাদপত্রে অনেক বিষয় নিয়ে লম্বা-চওড়া কথাবার্তা বলা হলেও এই চরম বিপজ্জনক বিষয়ের ওপর উপযুক্ত গুরুত্বের সঙ্গে কদাচিৎ কোন সমালোচনা হয়ে থাকে। যেখানে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য, এই চরম ঔদাসীন্য ও দায়িত্বহীনতার জন্য মন্ত্রীকে ভালোভাবে পাকড়াও করা দরকার যেখানে সংবাদপত্রের কাজ শুধু দাঁড়ায় এদের বক্তব্য পত্রিকায় প্রকাশ করা, তার থেকে বেশি কিছু নয়। অথচ আইনমন্ত্রীর বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বিষয়ে ঔদাসীন্য বা নীরবতার অর্থ হল পুলিশ, র‌্যাব, বিডিআর বা সামরিক বাহিনীর হাতে আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কোনরকম হিসাবের মধ্যে না নেয়া। জনগণের জন্য কোন নিরাপত্তা রক্ষাকবচ না থাকা। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই যে, সরকারের আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন বাধা ছাড়াই পুলিশ ও র‌্যাব দেশে এখন ক্রসফায়ারের নামে ব্যাপক ও বেপরোয়াভাবে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে পুলিশের আইজি পুলিশ কর্মচারীদের এক সম্মেলনে প্রকাশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে এটা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এর বিরোধিতা তো দূরের কথা, এটা যে সরকারের পূর্ণ অনুমোদন সাপেক্ষেই করা হচ্ছে এটা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী প্রমুখের নীরব সম্মতি অথবা সরাসরি সমর্থনের মাধ্যমেই হচ্ছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও পিছিয়ে নেই। তিনি অনেক আগেই ক্রসফায়ারের �ঐতিহ্যের� প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, রাতারাতি এই ঐতিহ্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। অথচ নির্বাচনের আগে দেশে ক্রসফায়ার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিলেন। তাদের অন্য বহু প্রতিশ্রুতির মতো এই প্রতিশ্রুতি যে একটি ভুয়ো ব্যাপার ছিল এটা এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।&lt;br /&gt;এদিকে বিডিআর পুনর্গঠনের দায়িত্ব যে অফিসারের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল নতুন মহাপরিচালক হিসেবে তিনি আইন-শৃংখলার একেবারে ঊর্ধ্বে উঠে বেপরোয়াভাবে যা করে চলেছেন এটা সমগ্র প্রশাসন ব্যবস্থা, আইন-শৃংখলা ব্যবস্থার ভাঙনের এক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো দৃষ্টান্ত। প্রথম থেকেই তিনি বেপরোয়াভাবে, নিজের ইচ্ছেমতো অনেক কাজই করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বাইরেও বিডিআরের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর নাম নিজেই পরিবর্তন করেন। তার মনোগ্রাম পরিবর্তন করে মন্ত্রীদের কাছে ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠিয়ে দেন। তিনি বিডিআরের পোশাক পরিবর্তনও নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই করেছেন এবং সেই পোশাক নিজেও পরিধান করে বেড়াচ্ছেন, অফিস করছেন। এ নিয়ে কয়েক দিন আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এক সদস্য বিক্ষুব্ধভাবে সমালোচনা করেছেন এবং অন্যরা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই এটা হয়েছে। স্পিকার তাকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে বলায় তিনি নিশ্চুপ থেকেছেন। তিনি নাকি এ বিষয়ে পরে তাদের বক্তব্য প্রদান করবেন। এর পর সর্বশেষ খবর হল প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিডিআরের মহাপরিচালক বাহিনীটির যে সংস্কার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন সেটি নাকি তার অনুমোদন লাভ করেছে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যেখানে জাতীয় সংসদে পর্যন্ত বিডিআর প্রধানের শৃংখলাবিরোধী বেপরোয়া কাজের জন্য শাস্তি দাবি করা হচ্ছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাকে শাস্তি প্রদানের চিন্তার ধারেকাছে না গিয়ে তার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন! অর্থাৎ শাস্তির পরিবর্তে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন!!&lt;br /&gt;এটাই বাংলাদেশে এখন চলছে। প্রতিদিন অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরাধ বেপরোয়া হয়ে ওঠা এবং অপরাধের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির কারণ বর্তমান বাংলাদেশে নিরপরাধ ও গবিবের জন্য নির্যাতন ও শাস্তির দায়িত্ব বেপরোয়া �আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী� বাহিনীসহ সব ধরনের সরকারি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকলেও প্রকৃত অপরাধীর শাস্তির কোন ব্যবস্থা নেই। উপরন্তু সবরকম উপায়ে অপরাধীদের এটা বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, অপরাধ করলে ক্ষেত্রবিশেষে অপরাধীর কিছু হয়রানি হলেও শেষ পর্যন্ত তার কোন শাস্তি নেই। বাংলাদেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। এবং শাসক শ্রেণী নিজেরই তৈরি আইন-কানুন পদদলিত করে সমগ্র সমাজের অপরাধীকীকরণের প্রক্রিয়া ওপর তলা থেকেই উৎসাহ লাভ করে দেশের জনজীবনকে এমন এক বিপর্যস্ত অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যার কোন পূর্ণ দৃষ্টান্ত নেই।&lt;br /&gt;(সুত্র, যুগান্তর, ২০/০৯/২০০৯) &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-6013939609131886224?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/6013939609131886224/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_9233.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/6013939609131886224'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/6013939609131886224'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_9233.html' title='ভাঙন এখন চারদিকে'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-6967030591974466742</id><published>2009-10-22T21:19:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T21:20:34.499-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গাদ্দাফী'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='জাতিসংঘ'/><title type='text'>জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাদ্দাফির ভাষণ</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি তার ৪০ বছরের শাসনকালে এই প্রথম যোগদান করে তার ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকলাপ, বিশেষত নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো ও কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করে এর পরিবর্তন দাবি করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি এ বিষয় ছাড়াও আবহাওয়া বিপর্যয় ও খাদ্য সংকটসহ অন্য কিছু বিষয়েও বলেন। কিন্তু তার পূর্ণ বক্তব্য তিনি জাতিসংঘ ও তার নিরাপত্তা পরিষদকে কেন্দ্র করেই প্রদান করেন।&lt;br /&gt;সব দেশ ও জাতির সমঅধিকার ইত্যাদির কথা জাতিসংঘের চার্টারে থাকলেও এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি একেবারে প্রথম থেকেই সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর এই ভূমিকা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে এখন এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যাতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ একটি সংস্থা ছাড়া একে আর কিছুই বলা যায় না।&lt;br /&gt;আসলে জাতিসংঘের নামে নিরাপত্তা পরিষদ এর মূল কার্য পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণ করে থাকে এবং এই পরিষদ বেশ খোলাখুলিভাবেই বিশ্বের সব থেকে শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর কুক্ষিগত। এভাবে ক্ষমতা যাতে কুক্ষিগত রাখা যায় এজন্যই নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন এই পাঁচটি রাষ্ট্রকে এর স্থায়ী সদস্য রেখে এদের ভেটো ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ছিল তিন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র, চীন ছিল মার্কিনের ওপর সর্বতোভাবে নির্ভরশীল। শুধু সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল এই সাম্রাজ্যবাদী বলয়ের বাইরে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন এক শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল যাতে তাকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পদ দিতেই হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের কাঠামো যেভাবে তৈরি করেছিল তার থেকে অন্য রকম কিছু জোর করে চাপিয়ে দেয়ার ক্ষমতা সোভিয়েত ইউনিয়নের ছিল না। সেই সঙ্গে তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বাইরে থাকা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য থাকায় সাম্রাজ্যবাদীদের কার্যকলাপ চলতে থাকা সত্ত্বেও তা বেপরোয়া হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অসুবিধা ছিল। ১৯৫৬ সালে মিসর সুয়েজখাল জাতীয়করণ করা এবং পরে ইরান অ্যাংলো ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি জাতীয়করণ করার সময় যে পরিস্থিতির উদ্�ভব হয়েছিল সেটা সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপস্থিতিতে আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব এবং পরোক্ষ সংঘর্ষ নতুন রূপে দেখা যায়। কোরিয়া ও পরে ভিয়েতনাম যুদ্ধই এর সব থেকে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক ক্রিমিনাল চক্রান্তের মাধ্যমে সৃষ্টি করে ইসরাইল রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র এখনও পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শক্তিশালী খুঁটি হিসেবে তাদের স্বার্থ রক্ষা করছে। এসব দিক দিয়ে জাতিসংঘ ক্ষুদ্র ও দুর্বল জাতিগুলোর কোন উপকারে আসেনি। উপরন্তু জাতিসংঘকে সব জাতির একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করিয়ে রেখে সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য কায়েম রেখেছে। এদিক দিয়ে আগের থেকে অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে, কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও চীনে পুঁজিবাদের শাসন কায়েম হওয়ার পর এ দুটি দেশও সাম্রাজ্যবাদী দেশ হিসেবে অন্য তিনটি দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এখন ক্ষুদ্র ও দুর্বল দেশগুলোসহ অন্যদের ওপর নিজেদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা করছে। আফগানিস্তান ও বিশেষ করে ইরাক আক্রমণের সময় দেখা গেছে কিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ব্রিটেন ছাড়া তাদের শিবিরের অন্য শরিকদের বিরোধিতাও সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কত বেপরোয়াভাবে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে নিযুক্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ইত্যাদিও কোন প্রাসঙ্গিক ব্যাপার ছিল না, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে সময় পুরো জাতিসংঘকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই আফগানিস্তান ও ইরাক আক্রমণ করেছিল। এদিক দিয়ে বিচার করলে জাতিসংঘের বিশেষ কোন কার্যকারিতাই এখন আর নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘকে একটি অকার্যকর ও ধাপ্পাবাজ প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে গেলে যা করা দরকার সেকথাই বস্তুতপক্ষে গাদ্দাফি তার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে বলেছেন। এর জন্য নির্ধারিত পনের মিনিটের জায়গায় তাকে অনেক বেশি সময় নিতে হয়েছে। এ নিয়ে তার ভাষণ চলতে থাকাকালেই বিবিসি, সিএনএন ও আল জাজিরার ভাষ্যকাররা এভাবে সময় বেশি নেয়ার সমালোচনা করতে থাকেন। এর মূল কারণ, গাদ্দাফির বক্তব্য তাদের মনঃপূত ছিল না। কিন্তু এভাবে সময় বেশি নেয়ার দৃষ্টান্ত এটিই প্রথম নয়। অনেকেই পনের মিনিটের বেশি সময় নিয়ে তাদের ভাষণ দিয়ে থাকেন। ফিদেল ক্যাস্ট্রো একবার জাতিসংঘে টানা সাড়ে চার ঘণ্টার এক ভাষণ দিয়েছিলেন। সে সময়ে তারও সমালোচনা করা হয়। কিন্তু জাতিসংঘ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা যে খেলা খেলে থাকে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া পনেরো মিনিটের কাজ নয়। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে বক্তব্য প্রদানের সব থেকে বড় সুযোগ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। এ কারণে যাদের দেয়ার মতো কোন প্রকৃত বক্তব্য আছে তারা বেশি সময় নিলে দোষের কিছু নেই। মজার ব্যাপার এই, গাদ্দাফির ভাষণের পর সাধারণ পরিষদের অল্পসংখ্যক প্রতিনিধি হাততালি দিয়েছিলেন এটাও উপরোক্ত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বলা হয়। এর অর্থ দাঁড়ায় এই, গাদ্দাফির ভাষণ অধিকাংশ দেশের প্রতিনিধি সমর্থন করেননি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটা এক পরিচিত সত্য যে, নির্যাতিত হলেও গোলামির শৃংখলে বাঁধা দেশগুলোর নেতারাই জাতিসংঘে সংখ্যাগুরু। এ অবস্থা না হলে জাতিসংঘের ভূমিকা তো অন্যরকম হতো। কাজেই গাদ্দাফির ভাষণের পর যদি নির্ভরশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অধিকাংশ হাততালি দিয়ে সমর্থন না করেন তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুধু তা-ই নয়, তাদের এই প্রতিক্রিয়া থেকে এটা মনে করার কারণ নেই যে, গাদ্দাফির বক্তব্য অসার এবং তার কোন যৌক্তিকতা নেই। উপরন্তু যৌক্তিকতার বিচারে তার এই বক্তৃতা ক্ষুদ্র, দুর্বল ও নির্ভরশীল দেশগুলোর স্বার্থের সপক্ষেই কতকগুলো বিষয়কে একেবারে নগ্ন ও খোলামেলাভাবেই সামনে এনেছে। গাদ্দাফি নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন। জাতিসংঘের কার্য নিয়মিতভাবে পরিচালনার জন্য একটি ছোট পরিষদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদ ছোট হলেও এই পরিষদে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের স্থায়ী অবস্থান ও ভেটো প্রদান ক্ষমতা ব্যবহার করে একে যেভাবে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে পুরোপুরি ব্যবহার করে আসছে, তাতে পুরো জাতিসংঘই প্রথম থেকে তাদের তল্পিবাহকের ভূমিকাই পালন করেছে এবং এই আন্তর্জাতিক সাংগঠনটিকে বিশ্বের দুর্বল ও ক্ষুদ্র দেশগুলোর শত শত কোটি মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। কাজেই এই অবস্থার পরিবর্তন এখন অপরিহার্য হয়েছে। এদিক দিয়ে গাদ্দাফি তার নিজের শাসনের অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশ্বের নিপীড়িত জাতিগুলোর পক্ষেই তার বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং এজন্য তিনি অভিনন্দনযোগ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গাদ্দাফি স্থায়ী সদস্যপদ উচ্ছেদ, ভেটো প্রথা বাতিলের কথা বলে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু যে নিপীড়িত জাতিগুলোর কোন প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিরাপত্তা পরিষদে নেই তা-ই নয়, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার মতো বিশাল মহাদেশ অঞ্চলের কোন প্রতিনিধিত্বও তাতে নেই। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। তাছাড়া তিনি আরও বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের&lt;br /&gt;প্রধান কার্যালয় নিউইয়র্ক থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া দরকার। এ কার্যালয় নিউইয়র্কে থাকার কারণে অন্য সব দেশের খুব অসুবিধা হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মোটকথা, লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফি তার ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদ সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরাপত্তা পরিষদকে একটি সন্ত্রাসী পরিষদের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সংস্থায় রূপান্তরিত করার জন্য তিনি যে পদক্ষেপগুলোর উল্লেখ করেছেন তা সর্বাংশে যুক্তিযুক্ত। এদিক দিয়ে তার বক্তব্যের মধ্যে বিশ্বের ক্ষুদ্র, দুর্বল ও নিপীড়িত জাতিগুলোর স্বার্থেরই প্রতিফলন হয়েছে।&lt;br /&gt;(সুত্র, যুগান্তর, ২৭/০৯/২০০৯)&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-6967030591974466742?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/6967030591974466742/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_5988.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/6967030591974466742'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/6967030591974466742'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_5988.html' title='জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাদ্দাফির ভাষণ'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-7953007596754667170</id><published>2009-10-22T21:16:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T21:17:44.238-07:00</updated><title type='text'>র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাচ্ছে</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;একই বিষয়ে কত লেখা যায়? কিন্তু বিষয় যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, ঘটনা যদি ক্রমাগত ঘটে চলতে থাকে এবং এসব ঘটনা যদি সমাজকে বিশৃঙ্খলা ও চরম বিপদের দিকে ঠেলে নিয়ে চলে, তাহলে সে বিষয়ে দু'একবার কিছু বলে চুপ থাকার অর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অবহেলা করা। এসবের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহায়তা না করা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যে বিষয় নিয়ে এই ভূমিকার প্রয়োজন হলো, সেটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আলোচিত হয়ে আসছে, তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক মহলে কিছু প্রতিবাদও হয়েছে; কিন্তু এর বিস্তার, নিষ্ঠুরতা ও বেপরোয়া হয়ে ওঠা বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ক্রসফায়ার হত্যাকাণ্ডের মতো ব্যাপার যখন রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের অংশে পরিণত হয়, তখন এটিই স্বাভাবিক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাবতে অবাক লাগে, পুলিশ ও র�্যাবের ক্রসফায়ার হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হলেও এর বিরুদ্ধে সংবাদপত্র, রেডিও, টিভির মতো বৈদ্যুতিক মাধ্যম, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, মানবাধিকার সংস্থা, তথাকথিত সুশীল সমাজ, এমনকি বামপন্থি নামে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া অন্য কেউ এটা বন্ধ করার জন্য উপযুক্তভাবে দাঁড়াচ্ছেন না, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ও কর্মসূচি গ্রহণ করছেন না। কেউ কেউ এর বিরুদ্ধে কিছু বললেও এমনভাবে সেটা বলা হচ্ছে, যার মধ্যে কোনো জোর নেই। নেহাত দায়সারা ব্যাপার হিসেবেই তারা এটা কখনও-সখনও করছেন। টেলিভিশনে টক শো হচ্ছে প্রতিটি চ্যানেলে প্রতিদিন একাধিক। এগুলোতে অনেক বিষয় আলোচনা হলেও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে পুলিশ ও র�্যাবের পরিচালনায় রাষ্ট্র কর্তৃক যে সন্ত্রাস সমাজে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো কিছু শোনা যায় না। টক শোতে অংশগ্রহণকারী বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদরা অনেক রকম বাগাড়ম্বর করে থাকেন; কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করতে তাদের দেখা যায় না। শুধু টিভির টক শো নয়, সংবাদপত্রে লেখালেখির মাধ্যমেও বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনেক বিষয়ে আলোচনা করে থাকেন; কিন্তু এ নিয়ে তাদের কোনো আলোচনা দেখা যায় না বললেই চলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাম্রাজ্যবাদী বড় কর্তারা ও তাদের প্রচারমাধ্যমগুলো এখন বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করাই নিজেদের সবচেয়ে বড় নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে অহরহ ঘোষণা করছেন এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোও সন্ত্রাসবাদ দমনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রভুতোষণ করছে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, যেসব দেশ এটা করছে তারা নিজেরাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অল্প-বিস্তর সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাস দমনের নামে। বাংলাদেশে সংবাদপত্র রিপোর্ট অনুযায়ীই এখন র�্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ারে যত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, অন্য কোনো দেশে সেটা হচ্ছে না। এ হত্যাকাণ্ড যে শুধু ঘটে চলেছে তা-ই নয়, প্রতিদিনই ঘটছে এবং সরকারি মন্ত্রী ও সরকারি দলের লোকেরা বড় গলা করে এর সাফাই-কীর্তন করছেন। এর থেকে বিপজ্জনক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি দেশের জন্য আর কী হতে পারে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শুধু ক্রসফায়ারেই নয়, পুলিশ-র�্যাব এবং অন্যান্য সরকারি বাহিনীর হাতে আটক অবস্থায় অর্থাৎ তাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। আটক অবস্থায় বন্দিদের এই মৃত্যুও (পঁংঃড়ফরধষ ফবধঃয) একটি দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নির্যাতনের মাত্রা নির্দেশ করে।&lt;br /&gt;বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতার সময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাপারে তার সরকারের ভূমিকা বর্ণনা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই বক্তৃতা থেকে মনে হওয়ার কথা যে, তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে সেটা এর ঠিক বিপরীত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;র�্যাব ও পুলিশ কিছুসংখ্যক ক্রিমিনাল সন্ত্রাসীকে ক্রসফায়ারে হত্যা করছে; কিন্তু তাদের এভাবে হত্যা করা একটি সমাজের জন্য, জনগণের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও কোনো অনুকূল শর্ত তৈরি করে না। তাছাড়া দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইনকানুন, নৈতিকতা_ কোনো দিক দিয়েই এ অপরাধীদের বিরুদ্ধে র�্যাব ও পুলিশের হত্যা অভিযান সঙ্গত নয়। দেশের আইন ব্যবস্থায় এ ধরনের ক্রিমিনালদের বিচারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে এবং সে আইন অনুযায়ী আসামির বিচার করে তার শাস্তি বিধান ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে বরাবর হয়ে এসেছে। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে তখনকার দিনে চারদিকে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে যেত। আগে পুলিশের বা সরকারের যে কাজের জন্য হুলস্থুল পড়ত, এখন সেটি প্রতিদিনই ঘটছে, তার রিপোর্ট সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে, খুন হয়ে যাওয়া লোকদের ছবি পর্যন্ত ছাপা হচ্ছে অথচ এর বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ নেই। এর কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন সরকার এবং র�্যাব ও পুলিশের মতো তাদের বাহিনীর নেই। এত নিশ্চিন্তে এ কাজ এভাবে এখন অন্য কোনো দেশে হচ্ছে বলে আমাদের জানা নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টসহ নিম্নতর আদালতের উকিল-ব্যারিস্টার সাহেবদের নিজস্ব সংগঠন আছে। তারা নিজেরা আছেন। অনেক বিষয়ই তারা ব্যক্তিগত এবং সংগঠনগতভাবে মতামত প্রদান, প্রতিবাদ ইত্যাদি করে থাকেন। অথচ অন্য কোনো কারণে না হোক, নিজেদের পেশার কারণেও র�্যাব ও পুলিশের এই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের উদ্বেগ, বক্তৃতা অথবা প্রস্তাব গ্রহণের কোনো দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। এক্ষেত্রে তাদের এবং আদালতের মালিকদের নীরব ও নির্বিকার ভূমিকা থেকে বোঝা যায়, দেশ আজ কত গভীর সংকটে নিমজ্জিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭২ সাল থেকে দেশে ব্যাপক লুটতরাজ, চুরি, ঘুষখোরিসহ চরম সব দুর্নীতি সমাজের একটি অংশের অপরাধিকীকরণ ঘটিয়েছে। ওপরতলায় এটা শুরু হলেও চুইয়ে চুইয়ে তা এখন সমাজের অনেক গভীরদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাস জন্ম লাভ করে সৃষ্টি করেছে এক বিরাট অপরাধের জগৎ। এ কারণে দেশে অপরাধীর সংখ্যা এখন নির্ণয়ের অতীত। পরিস্থিতি এদিক দিয়ে আয়ত্তের বাইরে যাওয়ার মুখে এর মোকাবেলা করার জন্যই ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হচ্ছে। এটাই হলো র�্যাব, পুলিশ এবং সরকার ও তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য।&lt;br /&gt;কিন্তু এভাবে যে এ সমস্যার মোকাবেলা করা সম্ভব নয়, এটা সাধারণ জ্ঞানের ব্যাপার। মশার উৎপাদন ক্ষেত্র অক্ষত রেখে যদি বাতাসে উড়ন্ত মশা মারার ব্যবস্থা হয় তাতে সমস্যার সমাধান হয় না। মশার জন্মস্থানই নতুন করে এবং অব্যাহতভাবে মশার জন্মদান করে থাকে। অপরাধ জগতের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। কী কারণে হঠাৎ করে স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশে অপরাধীর সংখ্যা তীব্র গতিতে বৃদ্ধিলাভ করল, এটা বোঝার চেষ্টা না করে আবোলতাবোল কথাবার্তা বললে এবং অপরাধী হত্যা করলেই এ সমস্যার সমাধান হওয়ার উপায় নেই। নৈতিক, আইনগত ও মানবিক দিক ছাড়াও এ সমস্যার এদিকটি গভীর ভাবনার বিষয়।&lt;br /&gt;আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য সাম্রাজ্যবাদীদের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দেশে দেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্মদান করেছে ও করে চলেছে, সন্ত্রাসী তৎপরতার বিস্তার ঘটাচ্ছে, ঠিক তেমনি এ দেশেও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সমাজে সাধারণভাবে সন্ত্রাসের শর্ত তৈরি করেছে। এর শুরু ১৯৭২ সাল থেকেই। সেই শুরুর দিন থেকে সমাজের অপরাধিকীকরণ ঘটে যে অপরাধের জগৎ এখন তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে দুর্নীতি যে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত, এটা আগেই বলা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;র�্যাব, পুলিশ ও সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রচার থেকে দেখা যায়, যাদের তারা হত্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় অনেক মামলা দায়ের করা আছে। কাজেই যাদের ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে তারা নিরীহ নয়, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড আছে। এই হলো তাদের যুক্তি ও বক্তব্য। কিন্তু এ বক্তব্য ও যুক্তি যদি সঠিক হয় তাহলেও এই অপরাধীদের বিনাবিচারে হত্যা করে যাওয়া রাষ্ট্র কর্তৃক নিজের তৈরি বিধানই লঙ্ঘন করা, তাকে পদদলিত করা। কারও বিরুদ্ধে যদি মামলা দায়ের হয়ে থাকে তাহলে সেই দায়ের করা মামলার বিচার হবে, এটাই স্বাভাবিক। বিচার যদি না হয় তাহলে আদালতে মামলা দায়ের করা তো অর্থহীন ব্যাপার। তাহলে কোর্ট-কাছারি, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টেরও কোনো প্রয়োজন আর থাকে না। কাজেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা আছে, এ কথা বলে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে তাদের হত্যার অর্থ দেশের বিদ্যমান আইন ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখানো ছাড়া আর কী? এভাবে যদি দেশের আইন ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শাসনব্যবস্থা চালানো যায় তাহলে সে শাসনব্যবস্থারই-বা পরিণাম কী?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এসব ভাবনা আজকের বাংলাদেশে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু আগেই বলা হয়েছে, এর প্রতি কারও কোনো গুরুত্ব নেই, কারও কোনো দৃষ্টি নেই এবং এ হত্যাকাণ্ড বন্ধের কোনো উদ্যোগ কোনো মহল থেকেই নেই। এই নিশ্চেষ্টতা চরম অমানবিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নীরব সমর্থন ছাড়া আর কী? বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের সর্বস্তরে বড় বড় লম্বা-চওড়া কথা বলার লোকের অভাব নেই। বস্তুতপক্ষে, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কথাবার্তা ন্যাকামিরই নামান্তর। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই যে, এদের কোনো ইতিবাচক প্রভাব সমাজে নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ আলোচনা শেষে যে বিষয়টির উল্লেখ বিশেষভাবে দরকার তা হলো, অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তৎপরতা ও ক্রসফায়ারের নামে র�্যাব ও পুলিশ এখন বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের খাতায় 'চরমপন্থি' লেবেল এঁটে দিয়ে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করছে। এরা অধিকাংশই কোনো না কোনো বামপন্থি গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদীরা বিশ্বজুড়ে যেভাবে বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাস দমনের নামে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে র�্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ারসহ সব রকম হত্যাকাণ্ডই পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। কাজেই এসব হত্যাকাণ্ড শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে করে গেলেও এর সঙ্গে প্রভুসেবারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(সুত্র, সমকাল, ২৯/০৯/২০০৯)&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-7953007596754667170?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/7953007596754667170/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_8190.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7953007596754667170'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/7953007596754667170'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_8190.html' title='র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাচ্ছে'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-1997259323824088743</id><published>2009-10-22T20:45:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T20:46:18.315-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='government'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='bangladesh'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='politics'/><title type='text'>সব সরকার একই গর্তের শেয়াল</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটি সরকারের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনবিষয়ক বিভিন্ন বক্তব্যের ওপর সমীক্ষা বা গবেষণা পরিচালনা করলে দেখা যাবে, ধরনের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও মূলত তার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। শ্রমিক-কৃষক সমস্যা, ট্যাক্সনীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য ও বৈদেশিক নীতি, বিরোধী দলের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, আইন-শৃঙ্খলা, ধর্মনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়েই বিভিন্ন সরকারের বক্তব্যের চরিত্রের মধ্যে ভিন্নতা নেই। তাদের রাজনৈতিক আচরণও বিস্ময়করভাবে অভিন্ন। এদিক দিয়ে তাদের বুদ্ধিজীবী লোকদের অবস্থাও একই প্রকার।&lt;br /&gt;এসব দেশে লোকে ভাবে ও বলে থাকে �যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।� রাবণ এক্ষেত্রে শোষণ-নিপীড়নের প্রতীক। এ ধারণা ও বক্তব্যের পেছনে যে সত্য নিহিত আছে তা হল, দল নির্বিশেষে সবাই এক। আবার এই একের প্রকৃত অর্থ হল, শ্রেণীগতভাবে এক। এই শ্রেণীই রাষ্ট্রের পরিচালক। রাষ্ট্র এই শ্রেণীরই শাসনযন্ত্র। প্রত্যেকটি সরকার এই রাষ্ট্রের পক্ষেই কাজ করে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা মালিক রাষ্ট্রের ম্যানেজারের মতো। এ কারণে সরকার যেভাবে পরিবর্তিত হোক, তার অর্থ ম্যানেজার পরিবর্তন। তার থেকে বেশি কিছু নয়। রাষ্ট্র ও সরকারের এই পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রকে উত্তীর্ণ হয়ে কোন সরকারের কোন স্বাধীন ভূমিকা থাকে না। বিভিন্ন সরকারের নীতি বক্তব্য ও আচরণের মধ্যে ঐক্যের কারণ এটাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ বিষয়টি যদি মাথায় রাখা যায় তাহলে আজ আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে তার নীতিনির্ধারণ ও পরিচালন করছে, যে আচরণ করছে এবং জনগণকে সব দিক দিয়ে যেভাবে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। বিএনপি-জামায়াত এবং ফখরুদ্দীনের বেনামি সরকারের বুড়ো আঙুল ভোটের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়েছে এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যারা সুখের স্বপ্ন দেখছিলেন তাদের সুখ-স্বপ্ন এখন ভঙ্গ হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিএনপি-জামায়াত ও ফখরুদ্দীন সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যার মধ্যে সব থেকে বড় প্রতিশ্রুতি ছিল জনগণের দিন বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু জনগণের দিন বদলে দেয়ার পরিবর্তে তারা এখন নিজেদের দিন বদলের যে কর্মসূচি নিয়ে সর্বত্র নেমে পড়েছে তাতে জনগণের জীবনে কোন সুখ তো নয়ই, এমনকি স্বস্তি পর্যন্ত আসেনি। উপরন্তু শোষণ-নির্যাতন ও নিরাপত্তার অভাবে জনগণের জীবন আজ দুর্বিষহ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াতের সময়কার ক্রসফায়ার নামক ফ্যাসিস্ট নির্যাতনের বিরুদ্ধে অনেক গালভরা কথা বলে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রসফায়ার সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ক্রসফায়ার বন্ধ হয়নি। শুধু তাই নয়, প্রথমেই তাদের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, �ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি এদেশে যেভাবে আছে তাতে এটা সহজে বন্ধ করা সম্ভব নয়। পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী র�্যাবের ক্রসফায়ার তো শুরু হয়েছিল বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলের মাঝামাঝি সময়ে, তার পর এটা বহাল থেকেছে ফখরুদ্দীন সরকারের সময়। কাজেই এদেশে এই ক্রসফায়ারের সংস্কৃতির বয়স তো বছর পাঁচের বেশি ছিল না। এই পাঁচ বছরের সংস্কৃতি কিভাবে এদেশের এতদিনকার সংস্কৃতিকে ধুলোয় মিশিয়ে এখন শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াল, যাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পক্ষে ক্রসফায়ার বন্ধ করা সম্ভব হল না? আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী, এমনকি শত্রুভাবাপন্ন দল বিএনপির সৃষ্ট সংস্কৃতি বদল করার ক্ষমতা যাদের নেই তাদের পক্ষে জনগণের দিন বদল করার প্রতিশ্রুতি যে এক চরম ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না এটা তাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের এ বিষয়ে খোলাখুলি বক্তব্য থেকে এখন স্পষ্ট। এরশাদের যে শাসনকে স্বৈরশাসন বলে আখ্যায়িত করা হয় সেই শাসনামলে দুই ছাত্রকে ট্রাক চাপা দেয়ার বিরুদ্ধে বড় আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু এখন একজন দু�জন তো দূরের কথা প্রতিদিনই কয়েকজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের যে নেতা-নেত্রীরা এবং তাদের যে বুদ্ধিজীবী দালালরা তখন এরশাদের এই স্বৈরাচারী আচরণের বড় রকম সমালোচনা করেছিলেন, আজ সরকারের এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের কোন সমালোচনা নেই, আন্দোলন তো দূরের কথা। শুধু তাই নয়, তাদের আদর্শিত বুদ্ধিজীবী দালাল ও সেবাদাসরা এখন মাঠে নেমেছে ক্রসফায়ারের সমর্থনে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শুধু ফায়ারই নয়, মূল্যবৃদ্ধি হল অন্য একটি বিষয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফখরুদ্দীন সরকারের আমলেও এদিক দিয়ে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। আওয়ামী লীগ দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দিয়েছিল। প্রথম দিকে দ্রব্যমূল্য কিছুটা কম ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও কয়েক মাসের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের নতুন মুখরা দুনিয়াদারির পাঠ লাভ করে মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে শুধু বিএনপি-জামায়াত সরকারের মন্ত্রীদের মতো কলকাঠি নাড়তে শুরু করেছেন তাই নয়; তারা এই কলকাঠি এমনভাবে নাড়ছেন যাতে এর মধ্যে বাংলাদেশে সব জিনিসের মূল্য অস্বাভাবিক এবং অদৃষ্টপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বৃদ্ধি যে হারে ও গতিতে হচ্ছে জনজীবন বিপর্যস্ত করার ক্ষেত্রে তার তুলনা নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে গরিব মানুষের জীবন ছাড়া বাংলাদেশে অন্য সব জিনিসের মূল্যই অবাধ গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।&lt;br /&gt;এই দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে যে দুর্নীতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এ নিয়ে বিতর্ক করতে যাওয়ার মধ্যে মতলববাজি ও দুর্নীতি ছাড়া আর কিছু নেই। মাছ, গোশত, শাকসবজি, তেল-মশলা, ডাল, দুধ, ডিম, চিনি সবকিছুর মূল্য যারা আকাশচুম্বী করেছে তারা নিজেদের সিন্ডিকেট তৈরি করেই এসব করছে। চালের মূল্যও এখন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে প্রশাসনের ও সরকারের সম্পর্ক যদি না থাকত তাহলে এভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। শুধু মূল্যবৃদ্ধিই নয়, যেভাবে আজ দেশের তেল-গ্যাস, কয়লা থেকে নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় সম্পদ দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর শর্তে বিদেশী সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত ও চেষ্টা হচ্ছে তার সঙ্গেও দুর্নীতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। বাংলাদেশ সাম্রাজ্যবাদের ওপর যতই নির্ভরশীল হোক, নানাভাবে যতই তাদের অধীনস্থ হোক, এক্ষেত্রেও ঘুষ-দুর্নীতি ছাড়া দলীয় সম্পদ এভাবে জনগণের মাথায় ঘোল ঢেলে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এই ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা অসম্ভব। বাংলায় �পুকুরচুরি� বলে একটা কথা আছে। পুকুর দেখা যায়, কাজেই পুকুরচুরিও বোঝা যায়। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যা হয় সেটা দেখা যায় না। এ দুর্নীতির ধরনই আলাদা। এ এক ধরনের হাওয়াই চুরি, দুর্নীতি যা হাতেনাতে ধরার কোন উপায় নেই। এ কারণে কোন সময়েই এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন মামলা দাঁড়ায় না, কিছুই প্রমাণ করা যায় না।&lt;br /&gt;উপরতলার এই দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের নিচের দিকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে এখন সারা সমাজে এমনভাবে ব্যাপ্ত হয়েছে যাতে এর কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন সহজ উপায় নেই। দুর্নীতির প্রতিকার বা সংশোধন কখনও নিচে থেকে ওপর দিকে হয় না। এটা হতে হয় ওপর থেকে নিচের দিকে। এর জন্য প্রয়োজন হয় ওপর দিকের শক্তিগুলোর বিতর্কের অতীত সততা এবং তাদের দ্বারা চুরি, ঘুষখোর দুর্নীতি বন্ধের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে এর কিছুই নেই। অভিন্ন এক শোষক-শাসক শ্রেণীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোট অথবা সামরিক শক্তির জোরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে এদিক দিয়ে অভিন্ন আচরণ করে চলেছে। এটা মূলত রাজনৈতিক সমস্যা। রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান হতে পারে। তার জন্য দরকার দেশজুড়ে জনগণের এমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংগ্রাম, যা ক্ষমতাসীন শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন দলের সম্মিলিত শক্তির থেকেও অনেক অধিক শক্তিশালী। এমন শক্তিশালী যাতে তার মোকাবেলায় বিদ্যমান শাসক শ্রেণীর সব শক্তি পরাজিত হয়ে এদেশে এক নতুন সমাজ ও শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(সুত্র, যুগান্তর, ১১/১০/২০০৯)&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-1997259323824088743?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/1997259323824088743/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_3062.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/1997259323824088743'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/1997259323824088743'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_3062.html' title='সব সরকার একই গর্তের শেয়াল'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-264451039160010953</id><published>2009-10-22T20:42:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T20:43:53.691-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='awami league'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='current news'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='bangladesh'/><title type='text'>দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক, তাদের রেহাই নেই</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বাংলাদেশ হলো, 'যা করে তার উল্টো বলে'র দেশ। এ কাজটি বিশেষভাবে করে শাসকশ্রেণীর লোকজন, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারের মন্ত্রী, সরকারদলীয় এমপি ও কর্মকর্তারা। ১৯৭২ সাল থেকেই এটা চলে আসছে। এরশাদের সময় এই নির্লজ্জতা মনে হয়েছিল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এখন মনে হয় এরশাদের নির্লজ্জতাকেও লজ্জা দান করে বর্তমান সরকারের নেতা-নেত্রীরা যা করেন তার উল্টো কথা বলে যাচ্ছেনও একেবারে বেপরোয়াভাবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৭ অক্টোবর দারিদ্র্যবিরোধী এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দুর্নীতিমুক্ত না হলে দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে না।' দুর্নীতি আর দুর্নীতিবাজদের হুশিয়ার করে তিনি বলেন, 'দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তাদের রেহাই নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা অর্থ খুঁজে বের করা হবে' (যুগান্তর, ১৮.১০.০৯)। এসব গালভরা লম্বা-চওড়া কথা শুনে একদিকে যেমন অন্তরে ক্রোধ সৃষ্টি হয়, তেমনি অন্যদিকে মুশকিল হয় হাসি সংবরণ করা। কিন্তু এভাবেই এ দেশ চলছে। 'দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তাদের রেহাই নেই'_ এ কথা প্রায় প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাদের মুখে শোনা গেলেও 'রেহাই' পাওয়ার আশ্বাস ও স্থির বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই এখন বাংলাদেশজুড়ে আতঙ্কজনকভাবে দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাজশাহীর এক আওয়ামী লীগ এমপির ২২ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে (যুগান্তর, ১৮.১০.২০০৯)। এতে বলা হয়েছে, 'আয়কর বিভাগে জমাকৃত করবর্ষ ২০০৯-১০-এর হিসাব বিবরণীতে ৩০ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এমপির নগদ টাকার স্থিতি দেখানো হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৩ টাকা। অথচ ২৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মেসার্স কার চয়েস থেকে নগদ ২২ লাখ টাকা দিয়ে নোহা মাইক্রোবাস ২০০৩ মডেলের গাড়িটি কিনেছেন। স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র তিন মাসের মাথায় কোন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে তিনি এত টাকার সংস্থান করলেন।' রিপোর্টটিতে আরও বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে সাংসদ মেরাজউদ্দিন মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি অন্যের গাড়ি ব্যবহার করতাম। এ অবস্থা দেখে পবার নওঘাটার সুবাস নামের আমদানি-রফতানি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ১৫ লাখ টাকা এবং আমার শ্যালক আজিজ খান বাকি টাকা দেওয়ায় আমি গাড়ি কিনতে পেরেছি।'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমপি সাহেব এর আগে অন্যের গাড়ি চড়তেন এটি বড়ই দুঃখের কথা। কারণ, তার পরিবার নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে গাড়ি চড়ায় অভ্যস্ত ছিল, তবে তার নিজের কোনো গাড়ি ছিল না। কিন্তু প্রথম কথা হলো, যার নিজের টাকায় গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই তিনি কেন একেবারে ২২ লাখ টাকা দিয়ে এত ব্যয়বহুল গাড়ি কিনবেন। দ্বিতীয় কথা হলো, আমদানি-রফতানি ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত একজন ব্যবসায়ী কেন তাকে ১৫ লাখ টাকার মতো বড় অঙ্কের টাকা দেবেন গাড়ি কেনার জন্য? এই ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এমপি সাহেব তাকে কী পাইয়ে দিলেন? তৃতীয় কথা হলো, তার শ্যালক ভগি্নপতিকে বাকি ৭ লাখ টাকা কীভাবে দিলেন? কেন দিলেন? তিনি কত টাকার মালিক যাতে করে ভগি্নপতিকে গাড়ি কেনার জন্য তিনি এই টাকা দিতে পারেন? এ টাকা তিনিই-বা কীভাবে ও কখন রোজগার করলেন? তার এই ধন-সম্পদ মালিকানার বয়স কত?&lt;br /&gt;আসলে কীভাবে বাংলাদেশে জনগণের সম্পদ দুর্নীতির মাধ্যমে লুটতরাজ হচ্ছে এ হলো তারই এক অভ্রান্ত দৃষ্টান্ত; কিন্তু এটি এখন কোনো ব্যতিক্রমী ব্যাপার নয়। এ ধরনের হাজার হাজার ঘটনা, এমনকি লাখ লাখ ঘটনা এখন বাংলাদেশে নিয়মিতভাবেই ঘটছে।&lt;br /&gt;'দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তার রেহাই নেই'_ একথা উঁচু গলায় বলা হলেও এখন রাজশাহীর এমপি সাহেবের ২২ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার ব্যাপারটি কী দাঁড়াবে? তার কথা শুনে মনে হয় তার গাড়ি নেই, তিনি অন্যের গাড়ি চড়েন এ দুঃখে কাতর হয়ে তার উলি্লখিত ব্যবসায়ী বন্ধু ও শ্যালক ১৫ লাখ ও ৭ লাখ টাকা দিয়ে তার জন্য কম দামের গাড়ি নয়, ২২ লাখ টাকার গাড়ি কিনে দিয়েছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যারা সংবাদপত্রে এসব খবর পাঠ করেন ও দেশের খবর রাখেন তাদের এটি বোঝার অসুবিধে নেই যে, যে টাকা দিয়ে এমপি সাহেব গাড়ি কিনেছেন সেটি দুর্নীতি করে পাওয়া টাকা। তিনি ওই ব্যবসায়ী ও নিজের শ্যালককে সরকারি ক্ষমতার জোরে এমন কিছু পাইয়ে দিয়েছেন, যার বিনিময়ে তারা গাড়ি কেনার জন্য এত বড় অঙ্কের টাকা তাকে দিয়েছেন। এমপি হওয়ার আগেও তো তিনি নিজের গাড়ি চড়তেন না। তখন তো এই ব্যবসায়ী এবং তার শ্যালক তার কষ্ট দেখে তাকে গাড়ি কিনে দেননি। এমপি হওয়ার পরই তারা তাকে এই উপহার দিয়েছেন। এই দুর্নীতির জন্য এমপি সাহেব কি কোনো শাস্তি পাবেন? তাকে কি গ্রেফতার করা হবে? না, তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি হিসেবে রেহাই পাবেন? সেটা হলে 'দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তার রেহাই নেই' এ ঘোষণার কী হবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা জানি কিছুই হবে না। কারণ, এ ঘোষণা নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ক্রসফায়ার বন্ধ করা, মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা ইত্যাদি প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতির মতোই ব্যাপার। রাজশাহীর উলি্লখিত এমপি গাড়ি কেনার মাধ্যমে যে দুর্নীতির ছাপ নিজের ওপর মেরেছেন সে ছাপ এখন প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের শীর্ষতম থেকে মাঝারি ও নিম্নতর পর্যায়ের নেতা-নেত্রীদের ওপর পড়ছে। সরকারি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে এরশাদ ও তারপর বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যেভাবে দুর্নীতি করে দেশের ও জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছিল বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির মাত্রা এখন তার সব কিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস হাত ধরাধরি করে চলে। এ কারণে আওয়ামী লীগের ছাত্র ও যুব সংগঠন থেকে নিয়ে তাদের অন্য লোকজনদের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসও এখন হাত ধরাধরি করে লুণ্ঠন উৎসবে মত্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তাদের দলের শত শত চিহ্নিত ক্রিমিনাল পলাতক অবস্থা থেকে দেশে ফিরে এসেছে এবং আগের থেকে বড় আকারে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদপত্রে এসবের রিপোর্ট প্রতিদিনই এখন বড় অক্ষরে প্রকাশিত হচ্ছে। আশ্চর্যের ব্যাপার যে, এই বাস্তব পরিস্থিতি সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীদের মুখে 'দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তার রেহাই নেই' এ কথা লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে বলা হচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসল ব্যাপার হলো দুর্নীতি রোধ ও নির্মূল করা যাদের দায়িত্ব এবং এ কাজ করার ক্ষমতা যাদের আছে তারা নিজেরাই যদি চরম দুর্নীতিবাজ হয় তাহলে দেশে দুর্নীতির উপদ্রব ও তার বিস্তৃতি বন্ধ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। এটিই এখন বাংলাদেশে হচ্ছে। যাদের দুর্নীতি জনগণের চোখে ধরা পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণ যারা এই দুর্নীতি করছে তারা জানে যে, তাদের দলের উপরওয়ালারাও বিরাট বড় আকারে দুর্নীতি করছে। ইচ্ছা করলে নিচের তলার লোকদের দুর্নীতি ধরা যায়, শাস্তিও দেওয়া যায়। কিন্তু যারা বিদেশিদের সঙ্গে নানা প্রকার চুক্তি করে তাদের কাছে দেশের সম্পদ চালান করছে, তাদের হাতেনাতে ধরা সম্ভব নয়। এ হলো এমন এক ধরনের হাওয়াই চুরি-দুর্নীতি, যার কোনো প্রমাণ থাকে না। এই দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এখন বিশাল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করে ক্ষমতাসীন লোকজন নিজেদের সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছে। যেহেতু এদের দুর্নীতি ধরার উপায় নেই, সে কারণে এই পর্যায়ের লোকদের দুর্নীতি এখন সম্পূর্ণ বেপরোয়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে যত প্রকার দুর্নীতির মামলা ছিল সব ঢালাওভাবে খারিজ করার ব্যবস্থা হয়েছে। এ ব্যবস্থা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত রকম মামলা আছে সবই প্রত্যাহার হচ্ছে। এটাও হলো দুর্নীতির এক অভ্রান্ত রূপ। কিন্তু এর ফলে মনে হচ্ছে, তারা কেউই কোনোকালে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তারা এ ব্যাপারে নিরীহ, তারা ধোয়া তুলসী পাতা! কিন্তু এই 'দুর্নীতিযুক্ত' লোকদের পরিবারের সদস্যরা বহা-তবিয়তে বেহিসাব অর্থ-সম্পদের অধিকারী হয়ে বিদেশে বাড়ি, জমি-জায়গা, শপিং মলের মালিক হয়েছেন। বড় আকারে ব্যবসা-বাণিজ্য ফেঁদে কারবার করছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে আজ ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এরা শহর ও গ্রামাঞ্চলে সব রকম উপায়ে সব ধরনের ভূমি জোর করে দখল করছে। এই ভূমিদখল এখন বাংলাদেশে রাতারাতি শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ার এক প্রশস্ত পথ। এই নিয়ে এখন বেশকিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহ চলছে, পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রচার এবং উল্টো প্রচার হচ্ছে। এ দেশে এখন নদী দখল হচ্ছে নিয়মিতভাবে। আওয়ামী লীগ সরকার প্রত্যেক দিনই জোর গলায় বলছে, নদী দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হবে; কিন্তু বাস্তবত এতদিন ধরে কিছুই হচ্ছে না। লোক দেখিয়ে কিছু উচ্ছেদ হলেও যারা এ কাজ করছে তাদের জন্য কোনো শাস্তি নেই। তাদের গ্রেফতার করা হয় না, তাদের কোনো জরিমানা হয় না। কাজেই উচ্ছেদ হওয়ার পর তারা আবার একই জায়গায় নদী দখল করে। এর কারণ যারা এভাবে ভূমি ও নদী দখল করছে তারা হলো নানা সূত্রে সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত লোক এবং কীভাবে রেহাই পেতে হয় এটা তারা জানে। কাজেই 'দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক তার রেহাই নেই' এই বাক্য যে নিতান্তই ফাঁকা বুলি এটাও তাদের ভালোভাবেই জানা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে আজ কীভাবে দুর্নীতি চারদিকে, দিকদিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে তার বর্ণনা দেওয়া এখানে সম্ভব নয়। সম্ভব নয়, কীভাবে এ দুর্নীতি-সন্ত্রাসের জন্ম দিয়ে দেশে আতঙ্কজনকভাবে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটিয়েছে। এই দুর্নীতি ও সন্ত্রাস রোধের কোনো উপযুক্ত উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনার ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনও সরকারের নেই। কাজেই তারা এখন ক্রসফায়ার করে সন্ত্রাসী হত্যার এক কর্মসূচি হাতে নিয়ে র�্যাব ও পুলিশকে দিয়ে প্রত্যেক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খুন করছে। এর দ্বারা দুর্নীতি ও সন্ত্রাস থেকে দেশ ও জনগণের মুক্তি আসছে না। উপরন্তু এ দুইয়ের রাজত্ব আরও ভালোভাবে বহাল থাকার শর্তই তৈরি হচ্ছে।&lt;br /&gt;(সুত্র, সমকাল, ২০/১০/২০০৯)&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-264451039160010953?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/264451039160010953/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_5992.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/264451039160010953'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/264451039160010953'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_5992.html' title='দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক, তাদের রেহাই নেই'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-9141514889752490757.post-8907258480571762247</id><published>2009-10-22T20:38:00.000-07:00</published><updated>2009-10-22T20:40:48.831-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='obama'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='noble prize'/><title type='text'>ওবামাকে শান্তি পুরস্কার কেন?</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ওবামাকে এই পুরস্কার দেওয়ায় দুনিয়াজুড়ে মানুষের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিস্ময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ এতে আনন্দ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কারের চরিত্রের দিকে যদি তাকানো যায় তাহলে দেখা যাবে, এভাবে এই পুরস্কার দেওয়ার মধ্যে বিস্ময়ের কিছু নেই। উপরন্তু এই পুরস্কার দেওয়ার সময় যে বিবেচনা কাজ করে সে অনুযায়ীই বারাক ওবামাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আলফ্রেড নোবেল যখন এ পুরস্কারের প্রবর্তন করেন তখন তিনি এক ধরনের সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সেটি করেছিলেন। প্রথম দিকে একে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে, বিশেষত প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাও হতো না। এ কারণে যোগ্য লোকদেরকেই এটি দেওয়া হতো। কিন্তু ক্রমেই নোবেল পুরস্কার তার এই চরিত্র হারাতে থাকে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর রাজনৈতিক ব্যবহার শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ পুরস্কার বাস্তবত পরিণত হয় সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ারে। এ কথা প্রযোজ্য অন্য ক্ষেত্রে অল্প বিস্তর হলেও শান্তি, সাহিত্য এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এর মধ্যে শান্তি পুরস্কারকেই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে যাদের পুরস্কার দেওয়া হয় তারা সাম্রাজ্যবাদের কলকাঠি ছাড়া আর কিছু নয়। ব্যাপারটি এত পরিষ্কার হওয়ার কারণে মাঝে মধ্যে শান্তি পুরস্কার কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে দিলেও তার সঙ্গে অন্য লোককেও জুড়ে দেওয়া হয়। এর সব থেকে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো নেলসন ম্যান্ডেলা। তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তার সঙ্গে একই বছর এ পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ শ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ডি ক্লার্ককে। ডি ক্লার্ক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় এক অতি নিকৃষ্ট বর্ণবাদী ফ্যাসিস্ট এবং শ্বেতাঙ্গ শাসনের অন্তিম পর্যায়ে এসেও তিনি আফ্রিকানদের ওপর যে বর্ণবাদী নির্যাতন চালিয়েছিলেন সেটা ভোলার নয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ব্যাপক শক্তিশালী বর্ণবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মুখে বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ ফ্যাসিস্টদের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গদের শাসন মেনে নিতে হয়েছিল। এতে ডি ক্লার্কের কোনো কৃতিত্ব ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও শুধু ম্যান্ডেলাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে সেটা সরাসরি বর্ণবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে যায় বলে তারা ম্যান্ডেলার সঙ্গে ডি ক্লার্ককে আফ্রিকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একইভাবে তারা এ পুরস্কার দিয়েছিল ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ইজতাক রবিনকে। প্রথমত বলা দরকার, আরাফাতকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল যখন তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে এক প্রকার সমঝোতায় এসেছিলেন। কিন্তু তবু তাকে এককভাবে এ পুরস্কার না দিয়ে যৌথভাবে ইসরায়েলের ফ্যাসিস্ট প্রেসিডেন্ট রবিনকেও সেটি দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় মিয়ানমারের জননেত্রী অং সান সু চিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেখানে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছেন দীর্ঘদিন ধরে। সেদিক দিয়ে তাকে পুরস্কার দেওয়া স্বাভাবিক মনে হতে পারে; কিন্তু এটি সে রকম স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। একথা ঠিক যে, মিয়ানমার এখন সেখানকার ফ্যাসিস্ট সামরিক বাহিনীর দ্বারা শাসিত হচ্ছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিনসহ অন্য সাম্রাজ্যবাদীদের চেষ্টা হচ্ছে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনকে নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে নিয়ে আসা। এদিক দিয়ে সু চিকে ব্যবহারযোগ্য মনে করেই তারা তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শান্তি পুরস্কারের এক দৃষ্টান্ত হলো বাংলাদেশে 'দারিদ্র্য বিমোচনের' জন্য মুহাম্মদ ইউনূসকে শান্তি পুরস্কার প্রদান। বাংলাদেশ সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন তারা জানেন যে, ক্ষুদ্র ঋণদাতা এনজিওগুলো বাংলাদেশে এখন ব্যাপকভাবে ঋণ ব্যবসা করছে এবং দরিদ্র জনগণ, বিশেষ করে নারীদের শোষণ-নির্যাতনে জর্জরিত করে তাদের উদ্বৃত্ত অপহরণ করছে। গ্রামীণ মহাজনদের কাছে এই গরিবরা যে রকম আগে বাধ্য হয়ে প্রয়োজনে ঋণ নিত এবং এখনও নিয়ে থাকে, তেমনি এখন তারা ঋণদাতা সংস্থা হিসেবে এনজিওগুলো থেকেও বাধ্য হয়ে ঋণ গ্রহণ করে। সমাজে বিদ্যমান শোষণমূলক অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণেই এটি ঘটে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক কাগজে-কলমে অন্য ক্ষুদ্রঋণ দাতাদের মতো এনজিও না হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকিং সেক্টরের একটি বিশাল এনজিও। সে হিসাবে এরা অন্য যে কোনো ঋণদাতা এনজিও সংস্থার মতোই সুদি কারবার করে। অন্য কোনো কোনো ঋণদাতা এনজিওর কিছু সামাজিক ক্রিয়াকার্য থাকলেও গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশুদ্ধ সুদি কারবারি ব্যাংক ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা অতি উচ্চ হারে সুদ নিয়ে গ্রামীণ গরিবদের উদ্বৃত্ত যেভাবে শোষণ করে তার খবর সংবাদপত্রে প্রায়ই প্রকাশিত হয়। যা-ই হোক, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো সাফল্য না থাকলেও তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ডক্টর ইউনূসকে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই যে এ কাজ করা হয়েছে এতে সন্দেহ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বারাক ওবামাকে হঠাৎ করে শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মানুষের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সাম্রাজ্যবাদীদের নিজেদের মহলেও এতে শুধু বিস্ময় প্রকাশই করা হয়নি, এর কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ ইত্যাদি পত্রিকায়ও এর সমালোচনা করা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মহলের সমালোচনার সঙ্গে তাদের সমালোচনার পার্থক্য থাকলেও এ পুরস্কার যেভাবে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সমালোচনার উপাদান থাকার কারণেই সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেরাই অনেকে এর সমালোচনা করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ওবামা বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর রাষ্ট্রের বিদ্যমান প্রেসিডেন্ট। প্রথমত, এ ধরনের ক্ষমতাসীন কোনো ব্যক্তিকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া প্রশংসাযোগ্য কাজ নয়। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার এখনও এক বছর পূর্ণ হয়নি এবং তিনি এই সময়ের মধ্যে এমন কোনো কৃতিত্বের পরিচয়ও প্রদান করেননি, যে কারণে তাকে কোনো আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা যেতে পারে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অনেক উদ্যোগের কথা বললেও তাদের নীতি ইসরায়েলের স্বার্থের খুঁটিতে বাঁধা থাকার ফলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি লবির চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট বুশের আমলে অনুসৃত নীতি থেকে ওবামা সরে এসেছেন, এমন বলা চলে না। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে একইভাবে সন্ত্রাসের জন্য দায়ী করে যে নীতি পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দ্বারা অনুসৃত হয়ে এসেছে, সেই নীতির ওপরই ওবামা দাঁড়িয়ে আছেন। কাজেই প্রেসিডেন্ট ওবামা নয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নির্ধারক ব্যক্তি। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলার উপায় নেই যে, ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা এখন পর্যন্ত পালন করতে সমর্থ হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ইসরায়েলকে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করার নীতি থেকে সরে আসেনি, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।&lt;br /&gt;ইরাকের পরিস্থিতি উন্নতির জন্য ওবামা তার ৯ মাসের শাসন আমলে কিছুই করতে সক্ষম হননি। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তিনি যা করছেন সেটা প্রমাণ করে যে, বিশ্বের সব থেকে মারাত্মক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে বলা দরকার, শুধু নির্বাচিত হওয়ার পরই নয়, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও বারাক ওবামা পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান থেকে বোমাবর্ষণের কথা বলেছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই সীমান্তে ড্রোনের হামলা এখন নিয়মিতভাবেই হচ্ছে। এতে হাজার হাজার নিরীহ লোক ইতিমধ্যেই নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তানের অন্য এলাকায়ও মার্কিন সামরিক হামলা হচ্ছে এবং ড্রোন হামলা বেলুচিস্তানে সম্প্রসারিত করার কথাও বলা হচ্ছে। এসব যে কোনো শান্তির দূতের কাজ নয়, মহাযুদ্ধবাজের কাজ এতে সন্দেহ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আফগানিস্তানে এখন মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী সৈন্যরা শুধু যে আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তা-ই নয়; প্রায় প্রতিদিনই তাদের বোমাবর্ষণে এবং অন্য সামরিক হামলায় নিরীহ লোকদের মৃত্যু হচ্ছে। ওবামা ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যসংখ্যা বড় আকারে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আরও বৃদ্ধি করার উদ্যোগ এখন নেওয়া হয়েছে। বস্তুতপক্ষে ইরাকের পর এখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসী হামলা এমন আকার, ব্যাপকতা ও হিংস্রতাপ্রাপ্ত হয়েছে, যা ইতিপূর্বে বুশের সময়ও দেখা যায়নি।&lt;br /&gt;(সুত্র, সমকাল, ১৩/১০/২০০৯)&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/9141514889752490757-8907258480571762247?l=b-umar.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://b-umar.blogspot.com/feeds/8907258480571762247/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_22.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/8907258480571762247'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/9141514889752490757/posts/default/8907258480571762247'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://b-umar.blogspot.com/2009/10/blog-post_22.html' title='ওবামাকে শান্তি পুরস্কার কেন?'/><author><name>annilkhan</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry></feed>
